প্রত্যুষ চক্রবর্তী, আউশগ্রাম
কর্মজীবন শেষ হয়েছে অনেকদিন আগে। কিন্তু প্রিয় বিদ্যালয় এবং ছাত্রছাত্রীদের প্রতি ভালোবাসার টানে ছেড়ে আসা কর্মস্থল আউশগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়কে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষিকা কল্যাণী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দান করা অর্থ ব্যাঙ্কে গচ্ছিত রেখে সেই অর্থের লভ্যাংশ থেকে প্রত্যেক বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকদের স্কলারশিপ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কলকাতার বাসিন্দা কল্যাণী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা নিয়ে এমএ পাশ করেন। পরে তিনি এলএলবিও করেন এবং কলকাতা হাইকোর্টে আইনচর্চা শুরু করেছিলেন। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল শিক্ষকতা করা। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারের সদস্যদের না-জানিয়ে (শুধুমাত্র এক বোনকে জানিয়ে) ১৯৭৮-এ আউশগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের সহ-শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন তিনি।
১৯৭৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেন কল্যাণী। ছাত্রদরদী ও শিক্ষানুরাগী এই শিক্ষিকা শুধু পাঠদানে সীমাবদ্ধ থাকেননি, ছাত্রছাত্রীদের সার্বিক বিকাশেও বড় ভূমিকা নিয়েছেন।
বর্তমানে আউশগ্রাম থানার অন্তর্গত গুসকরা পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের আলুটিয়া গ্রামে অবসর জীবন কাটাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি তিনি পুরোনো স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে এক লক্ষ টাকার অনুদান তুলে দেন। এই অর্থ ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানত হিসেবে রাখা হবে। সেই আমানতের লভ্যাংশ থেকে প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে।
প্রধান শিক্ষক তকির মণ্ডল বলেন, 'দিদির এই উদ্যোগ ছাত্রছাত্রীদের আরও উৎসাহিত করবে। তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকদের স্কলারশিপ দেওয়া হবে।' এ দিন বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষিকাকে সংবর্ধনা জানানো হয়।