মেয়ের পড়ার খরচ জোগাতে শাড়ি পরেই ছুট ম্যারাথনে! প্রথম হয়ে তাক লাগালেন মহারাষ্ট্রের রমা দেবী
প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বয়স তাঁর ৪৭। সাধারণ সুতির শাড়ি পরে যখন এসে দাঁড়িয়েছিলেন স্টার্টিং পয়েন্টে, কে জানত সেরার সেরা হবেন তিনিই! মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) রমা দেবী আসলে মনেপ্রাণে চেয়েছিলেন ম্যারাথন জিততে। তাহলে সেই অর্থ কাজে লাগাতে পারবেন মেয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে। শেষপর্যন্ত তাই হল। ব্র্যান্ডেড জুতো পরা পা-ও প্রৌঢ়ার খালি পায়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারল না।
মহারাষ্ট্রের বিড জেলায় আম্বাজোগাইয়ের বাসিন্দা রমা দেবী। তিনি অংশ নিয়েছিলেন ‘অমৃত দৌড়’-এ। ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ চক থেকে শুরু হয়ে ভাগ্যনগর চকে গিয়ে শেষ হওয়া দৌড়টিতে বিপুল সংখ্যক স্থানীয় তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করে। প্রথম পুরস্কার ছিল ৩ হাজার টাকা। এই টাকা তিনি ব্যবহার করবেন মেয়ের পড়াশোনার ‘ফি’ হিসেবে। অথচ দৌড় শুরুর সময়ে তাঁকে দেখে কে বলবে এই মহিলাই সকলকে পিছনে ফেলে দেবেন! পায়ে ছিল হাওয়াই চটি। কিন্তু দৌড় শুরুর পর তিনি বুঝে যান, চটি বারবার পায়ে পিছলে যাচ্ছে। এভাবে যে জেতা যাবে না, সেটা দ্রুত বুঝতে পেরে তিনি চটি হাতে নিয়েই দৌড়তে থাকেন। শেষপর্যন্ত খালি পায়েই বাজিমাত করলেন রমা দেবী। অথচ কাজটা ছিল প্রচণ্ড কঠিন। রাস্তা এবড়ো খেবড়ো। পড়ে আছে নুড়িকাঁকড়ও। তাছাড়া শাড়ি পরে দৌড়নোর একটা অসুবিধা তো থাকেই। কিন্তু যখন কেউ নিজের প্রতিজ্ঞায় অটুট থাকাই মনস্থ করেন, তখন তাঁকে আটকায় সাধ্য কার!
তাঁর এই সাফল্য সকলকে মুগ্ধ করেছে। মাঠে জয়ী হওয়ার পর রমা জানান, এই অর্থ নিছক উড়িয়ে খরচ করার নয়। মেয়ের পড়াশোনার জন্য। স্বাভাবিক ভাবেই তা জানার পর আয়োজকরা আবেগে ভেসে যান। ক্রমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। সন্তানের মায়ের এই অসাধ্যসাধন সকলকে মুগ্ধ করেছে। আর তাই গোটা দেশেই চর্চা তাঁকে নিয়ে।