লে’জ, কুরকুরে, ম্যাগি, লিমকা-প্রত্যেকটাই অত্যন্ত জনপ্রিয়। দেশের সব প্রান্তেই প্রতিদিন হু হু করে বিক্রি হয় এই চটজলদি খাদ্যপণ্য। সেই জনপ্রিয়তাকে হাতিয়ার করেই দিনের পর দিন ধরে চলছে ব্যাপক জালিয়াতি! জানা গিয়েছে, এক্সপায়ারি ডেট পেরিয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ খাবার ভরে দেওয়া হয়েছে নতুন প্যাকেটে। সেখানে পালটে দেওয়া হয়েছে এক্সপায়ারি ডেট। মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া এই খাবারই তুলে দেওয়া হচ্ছে আমজনতার হাতে।
কী কী খাবার রয়েছে এই তালিকায়? লে’জ চিপস এবং কুরকুরের একাধিক ফ্লেভার, ম্যাগি এবং ন’রের একাধিক ফ্লেভারের নুডলস ও স্যুপের প্যাকেটে তারিখ বদলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। থামস আপ এবং লিমকার মতো জনপ্রিয় সফট ড্রিঙ্কও বেআইনিবভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণত তারিখ পালটে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলত গুদামগুলিতে। সেখানে অভিযান চালিয়েই বিরাট কারবার ফাঁস করেছেন মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশেনের (এফডিএ) আধিকারিক এবং নবি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
এফডিএ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচদিন ধরে নবি মুম্বইয়ের (Mumbai) একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়েছেন তাঁরা। সেখানে প্রায় সাড়ে আট হাজার কার্টুন জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে যার মূল্য ৭৫ লক্ষ টাকারও বেশি। ওই গুদাম থেকে মহারাষ্ট্রে পণ্য সরবরাহ করা হত। দিল্লি এবং নয়ডাতেও পাঠানো হত জিনিস। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্যাকেটের উপর হালকা প্লাস্টিকের আস্তরণ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হত এক্সপায়ারি ডেট। তার উপর নতুন তারিখের প্রিন্ট আউট বসিয়ে দেওয়া হত।
ওই গুদাম থেকে স্টিকার, প্রিন্টার, তারিখ বসানো লেবেলের সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু এখনও কাউকে আটক করা হয়নি এই ঘটনায়। উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রের ‘স্বাস্থ্য’ ফেরাতে রীতিমতো আদাজল খেয়ে নেমেছেন তুকারাম মুন্ডে। মহারাষ্ট্রের এফডিএর দায়িত্ব পেয়েই কখনও ‘ভেজাল’ পনিরের উপর নিষেধাজ্ঞা বসাচ্ছেন, কখনও কেড়ে নিয়েছেন ডমিনোজ-পিজ্জা হাটের মতো বিখ্যাত খাবারের দোকানের লাইসেন্স। মহাপ্রসাদ বিতরণের যে বড় ভাণ্ডারগুলি রয়েছে তাদেরও লাইসেন্স নিতে হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার বড়সড় জালিয়াতি ধরল তুকারামের দপ্তর।