• বন্দে মাতরমের পর এবার ‘লাল দুর্গ’ যাদবপুরে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন, থাকছেন শমীক-স্বপণ-জিষ্ণু বসুরা
    প্রতিদিন | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • বেশ কয়েকদিন ধরেই চর্চায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসের মধ্যে ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। কর্তৃপক্ষের তরফে সেসব দেওয়াল লিখন মোছাও হয়েছে। সেই আবহে এবার ‘লাল দুর্গ’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন হচ্ছে। বিজেপির তরফে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসের ভিতরেই ত্রিগুণা সেন মঞ্চে ওই সম্মেলন হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, জিষ্ণু বসুরা। বন্দে মাতরমের পর ফের এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

    আগস্টের মাঝামাঝি বাম ছাত্র সংগঠন ও আরএসএস ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-র মধ্যে বিবাদে উত্তেজনা ছড়ায়। ক্যাম্পাসের ভিতর রাতে হামলার অভিযোগও ওঠে। এসএফআই ও এবিভিপির মিছিলে উত্তেজনাও ছড়ায়। জিবি বৈঠককে কেন্দ্র করে দিন পনেরো আগে উত্তাল হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্য়ালয়ের ক্যাম্পাস। প্রতিবাদে পথে নামে এবিভিপি, এসএফআই দু’পক্ষই। আন্দোলন, পালটা আন্দোলনের জল গড়ায় বহু দূর। খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, যাদবপুর দেশবিরোধীদের মদত দিয়ে চলছে বছরের পর বছর। এরপরই ক্যাম্পাস থেকে দেশবিরোধী স্লোগান মুছে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি। সেই মতো ক্যাম্পাসের দেওয়ার লিখন মোছাও হয়।

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালের ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’, ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’ বা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ স্লোগান চলবে না। সেই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে ‘বিতর্কিত’ দেওয়াল লিখনের ভিডিও পোস্ট করেছিলেন শুভেন্দু। এরপর সেইসব বিতর্কিত দেওয়াল লিখন মুছে ফেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই আবহে এবার ক্যাম্পাসেই জাতীয়তাবাদী সম্মেলন কর্মসূচি নিল বঙ্গ বিজেপি। রাজনৈতিকভাবে এই পদক্ষেপ বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

    যাদবপুর ক্যাম্পাস ‘দেশদ্রোহীদের আখরা’ বলে দাবি করছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে সব পড়ুয়ারা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেয় না। তাঁরা ক্যাম্পাসে পঠনপাঠনের জন্যই আসেন। একাংশ ক্যাম্পাসের মধ্যে রাজনীতির জন্য বছরের পর বছর থেকে যান বলে অভিযোগ। ‘দেশবিরোধী চর্চা’ও চলে। কোনও দেশবিরোধী কথা, স্লোগান, কর্মসূচি সেখানে চলবে না। সেই হুঁশিয়ারি সরকার ও দলের তরফেও দেওয়া হচ্ছে। বাম জমানা না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখনও তাদেরও ছত্রছাত্রায় রয়েছে। এমনই দাবি রাজনীতিকদের একাংশের। বাম মদতেই ওই ‘দেশবিরোধী’ দেওয়াল লিখন, স্লোগান, ইন্ধন চলছে বলে অভিযোগ।

    সেই ‘আস্ফালন’কে ভাঙতে এবার ক্যাম্পাসে বিজেপির তরফে কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। আগামী ৪ তারিখের ওই সম্মেলনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত-সহ দলের প্রথম সারির নেতৃত্ব উপস্থিত থাকবেন। সেই সম্মেলন থেকে কড়া বার্তাও দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনই মনে করা হচ্ছে।

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)