• Nepal Flash Flood: উত্তরপ্রদেশের নদীতে ভেসে এল ২১ অজ্ঞাত পরিচয় দেহ, কারণ কী নেপালের বিপর্যয়?
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ভয়াল হড়পা বানের ক্ষত শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ নেই। ভয়াবহ বিপর্যয়ের চার দিন পর থেকেই উত্তরপ্রদেশের নদী থেকে উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক মৃতদেহ। এখনও পর্যন্ত ২১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে উত্তরপ্রদেশের সীমান্তবর্তী মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলা থেকে। প্রশাসনের আশঙ্কা, নদীর জলস্তর কমলে আগামী দিনে আরও বহু দেহ ভেসে উঠতে পারে। প্রশাসনের অনুমান, মৃতদেহগুলি নেপাল বিপর্যয়ের শিকার। সেইগুলি গণ্ডক নদী ধরে ভেসে এসেছে ভারতে।

    ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ে। প্রবল স্রোতে ভেসে যায় রাস্তা, বাড়িঘর, সেতু এবং একাধিক জনপদ। বিপর্যয়ের কেন্দ্র ছিল নেপালের ভোটকোশি নদী। এই নদী নিম্ন অববাহিকায় এসে ত্রিশূলী নদীর সঙ্গে মিশেছে। ভারতে প্রবেশের পরে ওই নদীই গণ্ডক নামে পরিচিত। ফলে নেপালের বন্যার স্রোতের সঙ্গে মৃতদেহও ভারতের দিকে ভেসে আসছে।

    সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলা থেকে ১৩টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে মহারাজগঞ্জে। দুই জেলাই নেপাল সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় প্রশাসন প্রথম থেকেই নদীর গতিপথের উপর নজর রাখছিল।

    কুশীনগরের অতিরিক্ত জেলাশাসক বৈভব মিশ্র জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দেহগুলির এখনও পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। খাড্ডা তহশিলের কাছ থেকেও কয়েকটি দেহ উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু নদীর স্রোত অত্যন্ত প্রবল হওয়ায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।

    মহারাজগঞ্জের জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার রাত পর্যন্ত ছ’টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সোমবার আরও দু’টি দেহ উদ্ধার হওয়ায় সেখানে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে আট।

    নেপালের বিপর্যয়ের ভয়াবহতা দেখে আগেই সতর্ক ছিল ভারতীয় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলি। ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স বা NDRF-এর এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, নেপাল থেকে মৃতদেহ ভেসে ভারতের দিকে চলে আসতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল।

    তাঁর কথায়, ‘দেহগুলি বিভিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছে। কয়েকটি এতটাই পচে গিয়েছে যে সেগুলি শনাক্ত করা কঠিন। আমরা নেপাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দেহগুলির পরিচয় নিশ্চিত করার এবং পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ ওই আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, নদীর জলস্তর কমার পর আরও মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, এখন যে ২১টি দেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত সংখ্যা নয়।

    উদ্ধার হওয়া দেহগুলির অধিকাংশের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। দীর্ঘ সময় জলে থাকার কারণে কয়েকটি দেহের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ফলে পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ফরেন্সিক পরীক্ষা ও অন্যান্য পদ্ধতির সাহায্য নিতে হচ্ছে।

    এই পরিস্থিতি নেপালে নিখোঁজ মানুষের পরিবারগুলির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একদিকে নেপালে হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ, অন্য দিকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নদীতে একের পর এক অজ্ঞাতপরিচয় দেহ উদ্ধার হচ্ছে।

    নেপালের বিপর্যয়ের অভিঘাত যে দেশের সীমানা পেরিয়ে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছেছে, উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এই ২১টি দেহ তারই প্রমাণ বলে মত বিশেষজ্ঞদের। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, গত সপ্তাহের ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬২। এখনও কমবেশি ৪ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)