• নিমেষে এক্সপায়ারি ডেট বদলে ফের বাজারে কুরকুরে-ম্যাগি, আমজনতার হাতে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য?
    এই সময় | ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ম্যাগি থেকে কুরকুরে, লে’জ় চিপস থেকে নর স্যুপ— ৮ থেকে ৬৮, প্রত্যেকেরই পছন্দের তালিকায় উপরের দিকেই থাকে এই মুখরোচক খাবারগুলি। প্রতিদিন হু হু করে বিক্রি হয় এই খাদ্যদ্রব্যগুলি। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এই প্যাকেটজাত দ্রব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে মহা সঙ্কট। প্যাকেটের গায়ে তারিখ বদলে নাকি নতুন করে প্যাকেটবন্দি করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার। এমনই ভয়ঙ্কর জালিয়াতির ঘটনা এসেছে প্রকাশ্যে।

    প্যাকেটজাত সুস্বাদু খাবারগুলি কেনার আগে তারিখ পরীক্ষা করেও রেহাই নেই! খাবারের উৎপাদন ও এক্সপায়ারি ডেট বদলে ফের আমজনতাকে বিক্রির অভিযোগ। মহারাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এবং নবি মুম্বই পুলিশ ক্রাইম ব্রাঞ্চের যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ফাঁস হয়েছে এমনই জালিয়াতি চক্র। লে’জ চিপস, কুরকুরে, ম্যাগি, নর, হেলম্যান, থাম্বস আপ, লিমকা-সহ একাধিক নামী ব্র্যান্ডের খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে আসল মেয়াদের তারিখ মুছে নতুন ভুয়ো তারিখ বসানোর প্রমাণ মিলেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মোট মূল্য প্রায় ৭৫.৫২ লক্ষ টাকা।

    তদন্তকারী দল জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ইনকজেট প্রিন্টার, কেমিক্যাল থিনার এবং বিশেষ তৈরি স্টিকার ব্যবহার করে মূল প্যাকেজিং থেকে উৎপাদনের তারিখ (Manufacturing Date) ও মেয়াদ শেষের তারিখ (Expiry Date) মুছে ফেলত। এমনকী অনেক ক্ষেত্রে উপকরণের তালিকা ও পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্যের মূল লেবেল তুলে ফেলে নতুন ভুয়ো স্টিকার লাগিয়ে পুনরায় প্যাকেটজাত (repack) করা হতো।

    FDA আধিকারিকরা জানিয়েছেন, গত ২৪ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচদিন ধরে নবি মুম্বইয়ের (Mumbai) একটি গুদামে তল্লাশি চালিয়েছেন তাঁরা। এই অভিযানে ১০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ৮,৪৪২টি কার্টন খাদ্যসামগ্রী আটক করা হয়, যার মূল আনুমানিক ৭৫ লক্ষ ২১ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রায় ৩০,৬০০ টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ ও লেবেলহীন খাবারও উদ্ধার করা হয়েছে।

    শুধু তারিখ বদল নয়, খাবারের প্যাকেটে থাকা উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্যের আসল লেবেলও সরিয়ে নতুন স্টিকার লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। FDA আধিকারিকরা ঘটনাস্থল থেকে ইনকজেট প্রিন্টার, কেমিক্যাল থিনার এবং বিশেষ ভাবে তৈরি স্টিকার উদ্ধার করেছেন। এই সরঞ্জামগুলিই পুরোনো তথ্য মুছে নতুন তথ্য বসানোর কাজে ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা বেশ দীর্ঘ। লে’জ-এর বিভিন্ন ধরনের চিপস পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়াও ছিল কুরকুরের একাধিক জনপ্রিয় ফ্লেভারের প্যাকেট। ম্যাগি মশালা নুডলস এবং আটা নুডলস-ও উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি Knorr-এর একাধিক ফ্লেভারের স্যুপ, থাম্বস আপ ও লিমকার ক্যানও ছিল উদ্ধার হওয়া পণ্যের মধ্যে।

    জালিয়াতির এই ঘটনা ধরা পড়ার পরে অভিযুক্ত ‘সাধনা এন্টারপ্রাইজ’-এর লাইসেন্স সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। পাশাপাশি বৈধ FSSAI লাইসেন্স ও কেনাকাটার বিল না থাকায় আরও কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নমুনা সংগ্রহ করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ২০০৬ সালের খাদ্য সুরক্ষা আইন এবং নতুন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র একাধিক ধারায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছেন যে, খাদ্য প্রস্তুতকারী মূল ব্র্যান্ডগুলির সরাসরি এই জালিয়াতিতে কোনও ভাবেই যুক্ত নেই, মধ্যস্বত্বভোগী ও রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি বেআইনিভাবে এই পুনঃলেবেলিং চক্র চালাচ্ছিল। তবে এখনও কাউকে আটক করা হয়নি এই ঘটনায়।

  • Link to this news (এই সময়)