রাজ্য সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানালেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা পুরসভা ও পুলিশ প্রায় ১ হাজার লোক নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিল বলে দাবি করলেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বললেন, কোনও মহিলা পুলিশ কর্মীর শ্লীলতাহানি করা হয়নি। মঙ্গলবার শেক্সপিয়ার সরণি থানার সামনে দাঁড়িয়ে কিছুটা কটাক্ষের সুরে তিনি বললেন, ‘এত তৎপরতা দেখালে তারাপীঠে অগ্নিকাণ্ড ঘটত না।’
ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিস থেকে বিলবোর্ড খোলা নিয়ে কলকাতা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়েছে। সেই মামলাতেই এদিন দুপুর ১২টা নাগাদ শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দেন তিনি। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সন্ধ্যা পৌনে ছ’টা নাগাদ থানা থেকে বের হন অভিষেক। সেখানেই সাংবাদিক সম্মেলন করে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল সাংসদ।
সাইনবোর্ড কাণ্ডে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তাকে’ কটাক্ষ করে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, ‘ফলপ্রকাশের পরেই আলিপুরের সরকারি অফিসে আগুন লেগে গেল। চার হাজার ইভিএম পুড়ে গেল। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?’ বিজেপিকে তোপ দেগে তৃণমূল সাংসদ বলে দেন, ‘এখন তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের চমকাচ্ছেন।’
ঘটনার দিন ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে এক মহিলা পুলিশ কর্মীর শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছিল। অভিষেক সেই অভিযোগ উড়িয়ে পাল্টা দাবি করলেন, ‘আমাদের কাছে ভিডিয়ো আছে। কোনও শ্লীলতাহানি হয়নি। আমাদের নেতা-কর্মীদের টানতে টানতে নিয়ে গিয়েছিল।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘মানুষের ভোটে জিতে এলে এত ভয় কীসের?’ একই সঙ্গে রাজ্য সরকারকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অ্যারেস্ট করে জেলে ঢুকিয়ে রাজত্ব করবে ভাবলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছে।’
উল্লেখ্য, বেআইনিভাবে বিলবোর্ড লাগানোর অভিযোগ তুলে গত ২৭ অগস্ট অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন পুরকর্মী এবং পুলিশ আধিকারিকরা। তার পরেই সাইনবোর্ড খোলা নিয়ে শুরু হয় বচসা। ওই সময়ে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলে কলকাতা পুলিশ। সরকারি কাজে বাধাদান থেকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের হয় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে।