দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরে কালো পতাকা দেখালেন বিক্ষোভকারীরা। উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও। মঙ্গলবার নদিয়ার চাপড়ার এলেম নগরের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বিজেপি কর্মী বলে বলে তোপ দেগেছেন মহুয়া। অন্য দিকে, মহুয়া এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে নদিয়ার তেহট্ট-১ পঞ্চায়েত সমিতির ছয় তৃণমূল সদস্যকে ছ’বছরের জন্য দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। সেই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা চলছে। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাপড়ায় পৌঁছন মহুয়া। কিন্তু পথেই শুরু হয় বিক্ষোভ। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, তিনি এলাকায় পৌঁছতেই বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় বাস দাঁড় করিয়ে ব্যারিকেড গড়ে তোলেন। হাতে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। গো ব্যাক স্লোগান দেন।
মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তৃণমূল জমানায় ক্ষমতায় অপব্যবহার করেছেন মহুয়া। তাই তিনি চাপড়া ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে। পাল্টা বিজেপিকে তোপ দেগে মহুয়া বলেন, ‘বেকার সময় নষ্ট করছে।’ পাল্টা দলবদলু ও বিজেপি নেতাদের মদতেই বিক্ষোভ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের কড়া সমালোচনা করে ‘বেইমান’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের মাধ্যমে তৃণমূল কর্মীদের উপরে চাপ তৈরি ও হেনস্থার অভিযোগ করেন সাংসদ।
পাল্টা মহুয়ার বিরুদ্ধে অশান্তি পাকানোর চেষ্টার অভিযোগে সরব হয়েছে বিজেপি। কৃষ্ণনগর উত্তর বিজেপির প্রচার সচিব সন্দীপ মজুমদার বলেন, তিনি যে প্রান্তেই যাবেন, মানুষ তাঁকে এভাবেই বিক্ষোভ দেখাবে। এর জন্য তিনি নিজেই দায়ী।’ মহুয়ার বিরুদ্দে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলে সন্দীপ বলেন, ‘ভারতীয় জওয়ানদের অপমান করেছেন, বাঙ্গালীদের আরাধ্য দেবীকে অপমান করেছেন, বাঙালি হিন্দু মহিলাদের অপমান করেছেন। তাই সকলেই তাঁর উপরে ক্ষুব্ধ।’
এ বারই প্রথম নয়। নদিয়ায় আগেও বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন মহুয়া। গত ১ জুলাই পলাশীতে বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই বাড়ির নীচে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় তাঁকে। দেওয়া হয়েছিল ‘গো ব্যাক স্লোগান’। ডিম বৃষ্টি সঙ্গে চোর স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল। এমনকী মহুয়াকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ। সেই সময়েও বিক্ষোভকারীদের বিজেপি কর্মী বলে দেগে দিয়েছিলেন মহুয়া।
প্রশ্ন: কোথায় মহুয়া মৈত্রের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ হয়?
উত্তর: নদিয়ার চাপড়ার এলেম নগরে দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তাঁর গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ হয়।
প্রশ্ন: বিক্ষোভকারীরা কী করছিলেন?
উত্তর: তাঁরা কালো পতাকা দেখিয়ে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেন এবং রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করেন বলে অভিযোগ।
প্রশ্ন: মহুয়া মৈত্র বিক্ষোভকারীদের কাদের বলে দাবি করেছেন?
উত্তর: মহুয়ার দাবি, বিক্ষোভকারীরা বিজেপি কর্মী-সমর্থক।
প্রশ্ন: বিজেপির বক্তব্য কী?
উত্তর: বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, মহুয়াই এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।
প্রশ্ন: এর আগে কি মহুয়া এমন বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন?
উত্তর: হ্যাঁ। গত ১ জুলাই পলাশীতে তৃণমূলের বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কালো পতাকা দেখানো, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান এবং ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠেছিল।