বাড়িতে সাপ ঢুকলে বিপদ থেকে রক্ষা পেতে ডাক পড়ত যাঁর, ভাগ্যের এমনই পরিহাস, সাপের কামড়েই মৃত্যু হলো তাঁর! সাপ উদ্ধার করে কৌটোয় ঢোকাতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা গেলেন ‘সর্পবন্ধু’ তপন সিংহ (৫৪)। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর সদর ব্লকের কুকুরমুড়ি এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমনই অদৃষ্ট, একটি সাপ কৌটোবন্দি করে তপন সেই সময়ে বলছিলেন, নদিয়ার এক যুবকের সাপের কামড়ে মর্মান্তিক পরিণতির কথা। বলতে বলতেই তাঁর সঙ্গে ঘটে যায় এই ঘটনা!
সোমবার সন্ধেয় কুকুরমুড়ি এলাকায় এক গৃহস্থের বাড়িতে সাপ ঢোকার খবর পেয়ে উদ্ধার করতে যান তপন সিংহ। প্রথমে একটি সাপ উদ্ধার করে তিনি নিয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পরে একই জায়গা থেকে আবার একটি সাপ বের হয়। আবারও সাপ উদ্ধার করতে যান তপন। একটি বিশাল খরিশ সাপ উদ্ধার হয়। সাপটিকে ক্যাচার দিয়ে ধরেও ফেলেন।
কিন্তু কৌটোয় ভরার সময়ে তপনের আঙুলে কামড় দেয় (news in bengali)। সাপ উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরে গিয়ে বিষয়টি কাউকে জানাননি তিনি। নিজেই গাড়ি নিয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পথে রওনা দেন। যদিও মাঝ পথে শরীর এলিয়ে পড়ে তাঁর। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তপন পেশায় একজন গাড়ির চালক। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি সাপ ধরা, সাপ নিয়ে মানুষকে সচেতন করা তাঁর নেশা। ‘সর্পবন্ধু’ হিসেবে এলাকায় পরিচিতি রয়েছে তাঁর। অথচ সোমবার সন্ধেয় সেই সাপের ছোবলেই প্রাণ গেল মানুষটির! স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবারও সাপ ঝাঁপিবন্দি করার সময়ে তপন বলেছিলেন, ‘বর্ষাকালে চারিদিকে বৃষ্টি। ব্যাঙ ধরতে বেরিয়ে আসছে সাপ। সাপ বেরোলে কেউ কখনও মারবেন না। আমার নম্বরে ফোন করবেন বা বনদপ্তরে জানাবেন। আমি সাপ ধরছি দেখে আপনারাও আবার কেউ সাপ ধরতে যাবেন না। নদিয়ার এক দাদা এ ভাবে মারা গিয়েছেন।’ সেই সব কথা বলার সময়েই সাপ তাঁর আঙুলে ছোবল মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমন ভাবে কামড়ে ধরেছিল, আঙুল ছাড়াতে পারছিলেন না তপন।
সাপ ধরার মুহূর্তটি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন অনেকেই। সাপের কামড়ের ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যেই তপন সিংহ হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন। সর্প বিশেষজ্ঞরা জানান, সাপটি অনেকক্ষণ কামড়ে ধরেছিল। যার জন্য বেশি বিষ শরীরে প্রবেশ করে। তাই এত দ্রুত মৃত্যু হয় তপনের।