• যাদবপুরে যত্রতত্র দেওয়াল লিখনে রাশ, ‘উস্কানিমূলক, অ্যান্টি ন্যাশনাল...’, পড়ুয়াদের কী বার্তা উপাচার্যের?
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আপত্তিজনক’ দেওয়াল লিখন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই শুরু হয়েছিল চুনকাম। কিন্তু রবিবার ফের যে কে সেই। অবশেষে মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের যত্রতত্র দেওয়াল লিখন, গ্রাফিত্তি, পোস্টার লাগানোর ঘটনায় হস্তক্ষেপ করলেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক, আধিকারিক ও কর্মীদের উদ্দেশে খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসে কয়েকটি জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হবে। সেখানেই দেওয়াল লিখন বা গ্রাফিত্তি আঁকবেন।’

    চিঠির শুরুতেই যেখানে সেখানে দেওয়াল লিখন, গ্রাফিত্তি বা পোস্টার না লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন উপাচার্য। একই সঙ্গে জাতীয় আন্দোলনের আবহে গড়ে ওঠা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। উপাচার্য লিখেছেন, ‘ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্য ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের যৌথ দায়িত্ব। তাই ভবন, গেট বা অন্যান্য স্থানে পোস্টার লাগাবেন না।’

    এর পরেই দেওয়াল লিখনের জন্য কিছু নির্দিষ্ট স্থান ঠিক করে দেওয়ার কথা জানান তিনি। উপাচার্য লিখেছেন, ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখতে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ঠিক করে দেওয়া হবে। শুধু সেখানেই দেওয়াল লিখন বা পোস্টার টাঙানো যাবে।’ একই সঙ্গে দেওয়াল লিখনের ‘বিষয়বস্তু’ নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন পড়ুয়াদের। উপাচার্য লিখেছেন, ‘উস্কানিমূলক, অবমাননাকর, আপত্তিকর, জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য ক্ষতিকর এমন কিছু লিখবেন না।’

    এই প্রসঙ্গে লিখতে গিয়ে ‘অ্যান্টি ন্যাশনাল’ শব্দবন্ধও ব্যবহার করেছেন উপাচার্য। তিনি লিখেছেন, ‘অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগ বা মর্যাদায় আঘাত লাগে বা অ্যান্টি ন্যাশনাল মনে হয়, এমন কিছু লেখা থেকে বিরত থাকাই ভালো।’ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধের ভারসাম্য বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর এই আবেদন পড়ুয়া, শিক্ষক, গবেষক, কর্মীরা মেনে চলবে বলেই আশা করেছেন উপাচার্য। চিঠির শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখার আর্জিও জানিয়েছেন।

    উল্লেখ্য, গত মাসে এবিভিপি এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তার আঁচ এসে পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতেও। ক্যাম্পাসে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান লেখা থাকে বলে অভিযোগ করেছিল বিজেপি, এবিভিপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘কেন কিষেণজি রেড স্যালুট লিখে রেখেছেন? কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি স্লোগান উঠবে কেন?’ এর পরেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে চুনকাম শুরু হয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, সাদা রঙের উপরে কালো কালিতে কার্ল মার্কসের উক্তি লিখে রেখেছেন বাম ও অতি বাম পড়ুয়ারা। এর পরেই দেওয়াল লিখন, গ্রাফিত্তি নিয়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন উপাচার্য।

  • Link to this news (এই সময়)