বর্ষার মরশুমে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ডেঙ্গি। বিভিন্ন জেলা থেকে মিলছে আক্রান্তের খবর। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘বর্তমানে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত রয়েছেন। চিন্তার কিছু নেই।’ ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কলকাতা পুরসভা এলাকায় তিন দিনের স্পেশাল ক্লিনিং ড্রাইভ চালুর কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
ডেঙ্গি মোকাবিলায় রাজ্য সরকার একাধিক পদক্ষেপ করছে জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘পর্যাপ্ত কিট রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।’ তবে ব্যবস্থায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছেন না। কলকাতা পুরসভা এলাকায় শুরু হচ্ছে বিশেষ সাফাই অভিযান। শুভেন্দুর কথায়, ‘কলকাতা পুরসভা এলাকায় ৩, ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর স্পেশাল ক্লিনিং ড্রাইভ চালানো হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে ফগ মেশিন ব্যবহারের কথাও রয়েছে। তবে সীমিত সংখ্যায়।’ নিম্নবিত্ত এলাকাগুলিতে বিনামূল্যে মশারি বিতরণের কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে ডেঙ্গি নিয়ে লুকোচুরি খেলা চলত বলে এদিন অভিযোগ করেন শুভেন্দু। কিছুটা কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘কেউ আক্রান্ত হলেও তা লিখতে পারতেন না চিকিৎসকরা।’ নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই চিকিৎসকদের যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘ডেঙ্গি হলে লিখবেন। কোনও অসুবিধা নেই। পুরসভা, প্রশাসন ডেঙ্গি মোকাবিলায় সক্ষম।’ একই সঙ্গে রাজ্যবাসীকে তাঁর পরামর্শ, ‘জ্বর হলে, বিশেষ করে ২ দিনের বেশি থাকলে, ফেলে রাখবেন না। বিনামূল্যে টেস্টের ব্যবস্থা আছে। করিয়ে নেবেন।’
গত বছরে এই সময়ে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৭,৬০০ জন। এ বারে সেই সংখ্যাটা ৪ হাজারে নেমে এসেছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘প্রায় ৫০ শতাংশ কম। এটা রাজ্য সরকারের সাফল্য বলব না। সাধারণ মানুষ সচেতন হয়েছেন। তাই এই সংখ্যা দেখতে পাচ্ছি আমরা।’ এই মুহূর্তে রাজ্যে ১৪৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৬ অগস্ট থেকে রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু হয়েছে। তার পর থেকে মাত্র ১৫ দিনে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসা পেয়েছেন। তথ্য-পরিসংখ্যান দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘এই প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ১৯ হাজার ৭০০ জনের চিকিৎসা হয়েছে। আর ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র আর ওডিশায় চিকিৎসা করানো হয়েছে ৪৫২ জনকে। তাঁরা বাংলারই বাসিন্দা, ভিন রাজ্যে থাকেন।’
চিকিৎসা পেয়েছেন এমন ১০০ জনের সঙ্গে তাঁর ভার্চুয়ালি কথাও হয়েছে। শুভেন্দু বললেন, ‘সোনারপুরের গোপাল মণ্ডলের ১ লক্ষ ৫০ হাজারে হার্টের চিকিৎসা হয়েছে। একটা পয়সাও লাগেনি। বীরভূমের আসগর আলি তাঁর বাচ্চার চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রমাণ হয়ে গিয়েছে আমরা ধর্ম দেখে কাজ করি না।’