৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পর পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেলেন অভিষেক, থানা থেকে বেরিয়ে কী বললেন?
আজ তক | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেক্সপিয়র সরণী থানা থেকে ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় পর বেরোলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের পার্টি অফিসে পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের অশান্তির ঘটনায় তাঁকে তলব করেছিল পুলিশ।
থানা থেকে বেরিয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অত্যাচার করছে সরকার। নানা বাহানা খুঁজে তাঁকে ও তাঁর দলকে অপদস্থ করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ দলদাসে পরিণত হয়েছে।
অভিষেকের সমালোচনা, ফায়ার অডিট যেভাবে করা হচ্ছে সেই তৎপরতা সব জায়গায় থাকলে তারাপীঠ বা মির্জা গালিব স্ট্রিটের মতো ঘটনা ঘটত না। তিনি বলেন, 'আমাদের পার্টি অফিসে যে তৎপরতা দেখিয়েছে দমকল যদি একমাস আগেও তেমন তৎপরতা দেখাত, তাহলে হোটেলে দমবন্ধ হয়ে অনেকে মারা যেতেন না। আলিপুরের প্রশাসনিক ভবনে ভোটের ফলাফলের পর আগুন লেগে গেল। তার কারণ আজও জানা যায়নি। তখন যদি দমকল ফায়ার অডিট করত তাহলে ভালো হত। হঠাৎ ২ তলা থেকে ৯ তলায় আগুন লেগেছিল। ৪ হাজার ব্যালট ও কন্ট্রোল ইউনিট আগুনে পুড়ে ছাড়খাড় হয়ে গিয়েছিল। তখন কোথায় ছিল ফায়ার অডিট? তখন বিজেপি বা শুভেন্দু অধিকারীর টনক নড়েনি।'
অভিষেকের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের মিথ্যা কেসে ফাঁসাচ্ছে পুলিশ ও বিজেপি। সেজন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান তিনি। তাঁর কথায়, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন যেভাবে চমকাচ্ছেন, তা অভাবনীয়। উনি যদি মনে করেন, আমাদের কর্মীদের গ্রেফতার করবেন মিথ্যা কেসে, হেফাজতে নিয়ে অত্যাচার করবেন, তাহলে ভুল ভাবছেন। আমাদের বারুইপুরে এক কর্মীকে হেফাজতে অত্যাচার করা হয়েছে। কোনও নোটিশ ছাড়া অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরোটাই অবৈধ। নোটিশ ছাড়া গ্রেফতার করা যায় না। নিয়ম মানছে না পুলিশ। পুলিশের দোষ নেই। কারণ তারা সরকারের কথা মতো কাজ করছে।'
অভিষেক আরও জানান, কারও শ্লীলতাহানি করা হয়নি। যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মিথ্য়া। তিনি দাবি করেন, 'সব ভিডিও আমাদের কাছে আছে। পুলিশ কর্মী বা অফিসাররা আমাদের কর্মী-সমর্থকদের সিঁড়ি থেকে ছেঁচড়াতে ছেঁচড়াতে নিয়ে এসেছিল। সেই সব প্রমাণ আছে। মুখ্যমন্ত্রীর এত ভয় কেন? তিনি যদি সত্যিই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেন, তাহলে ক্ষমতায় আসার পর দিন থেকেই কেন তিনি তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করতে শুরু করলেন।'
ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার। সেদিন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতর থেকে একটি বিলবোর্ড খুলতে গিয়েছিলেন। আর তা নিয়েই পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে অভিষেকের দলের লোকেদের অশান্তি হয়। পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধরের অভিযোগও ওঠে। এই শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি অভিযোগ দায়ের হয়। মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা, শ্লীলতাহানির চেষ্টার মামলাও রুজু হয়। সঙ্গে ছিল পুলিশ ও পুরসভাকে কাজে বাধা দেওয়ার FIR। তার ভিত্তিতেই অভিষেককে তলব করেছিল শেক্সপিয়র সরণী থানা।