• ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটতে চলেছে ট্রেন, দ্রুতগতিতে কাজ চলছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথের
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে এবার যেন স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। দুরন্ত গতিতে এবার ছুটে যাবে ট্রেন। ইতিমধ্যেই রেলপথ তৈরির কাজ শেষের দিকে। সব ঠিক থাকলে ২০২৭ সালে এখানের গ্রামবাসীরা নিজের চোখেই তা দেখতে পাবেন। কী দেখতে পাবেন? গ্রামবাসীরা দেখতে পাবেন, ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে ডবল ইঞ্জিন রেল। জট কাটিয়ে দ্রুতগতিতে সেই কাজ চলছে তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথের। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কাজে এবার আশা দেখছেন ভাবাদিঘির আন্দোলনকারীরা। নতুন বছরে সেই রেলের উদ্বোধনে আসতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

    কদিন আগে থেকে এই নিয়ে সমাজমাধ্যমে মিম ছড়িয়ে পড়ে। তাতে সত্যজিৎ রায় পরিচালিত পথের পাঁচালী সিনেমার দৃশ্যকে সামনে রেখে ট্রেন চলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। আসলে এখানের মানুষজনও চান সমস্যা মিটে গিয়ে চলুক ট্রেন। এবার দীর্ঘদিনের আইনি এবং স্থানীয় বাধা কাটিয়ে অবশেষে শেষ পর্যায়ে বহুল প্রতীক্ষিত তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষের পথে। গোঘাট ও কামারপুকুরের মধ্যবর্তী ঐতিহাসিক ভাবাদিঘির জট মিটিয়ে এগিয়ে চলেছে রেল সেতুর নির্মাণকাজ। ভাবাদিঘিতে ইতিমধ্যেই ৯টি শক্তিশালী কংক্রিটের পিলার উঠে গিয়েছে এবং সেখানে গার্ডার বসানোর প্রস্তুতির কাজ চলছে। কামারপুকুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত পথে একাধিক গার্ডার ব্রিজ এবং ট্র্যাকের কাজ জোরকদমে এগোচ্ছে।​

    রেল সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে, যে গতিতে কাজ এগোচ্ছে তাতে ২০২৭ সালের শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মতিথিতে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে। আর সেটা হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কামারপুকুরে উপস্থিত থেকে তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর পূর্ণাঙ্গ রেল লাইনের ঐতিহাসিক সূচনা করতে পারেন। এমনকী তখন প্রধানমন্ত্রী তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর লাইনে ডবল ট্র্যাকিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রকল্পের ঘোষণাও করতে পারেন। শুধু তাই নয়, হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রেলের ভবিষ্যৎ তালিকায় আছে। তবে কদিন আগে রেলের পক্ষ থেকে ভাবাদিঘির খননকাজ করে দিঘির পাড় বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    তাছাড়া তারকেশ্বর, কামারপুকুর, জয়রামবাটি বিষ্ণুপুর, হুগলি এবং বাঁকুড়ার ঐতিহ্যবাহী মন্দিরনগরীকে সরাসরি যুক্ত করবে এই রেলপথ। তাই গ্রামবাসীদের আশাও অনেক। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং পর্যটন শিল্পেও এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের ১২টি রেল প্রকল্প নিয়ে তৎপরতা দেখাতে শুরু করেছে। তার মধ্যেই একটি তারকেশ্বর বিষ্ণুপুর রেলপথ। আর ডবল ইঞ্জিন সরকার এখানে থাকায় কাজের গতি বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)