কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কালো পতাকা নিয়ে সাংসদের গাড়ি ঘিরে রাখা হল বেশ কিছু সময়! বিক্ষোভ পেরিয়ে গাড়িতে উঠেও নিস্তার পাননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ। গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ। বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা এই হামলা, বিক্ষোভ চালিয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনা ঘিরে এদিন রীতিমতো রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল নদিয়ার চাপড়ায়।
নিজের সংসদীয় এলাকায় গিয়ে মহুয়া মৈত্র একাধিকবার বিক্ষোভ, হামলার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল সাংসদ। সাংসদের নিরাপত্তার নির্দেশ দিল আদালত। এবার থেকে কৃষ্ণনগরে সাংসদের নিরাপত্তার জন্য দু’জন করে পুলিশ কর্মী থাকবে। এদিনের ঘটনা নিয়ে বিজেপির দিকেই আঙুল তুলেছেন মহুয়া মৈত্র। আজ, মঙ্গলবার নদিয়ার চাপড়ায় দলীয় কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সাংসদ।
সেই সম্মেলন থেকে বেরনোর সময় তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখানো হয়। ‘গো ব্যাক’ স্লোগান চলে। তীব্র ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় সেখানে। সাংসদকে ঘিরে ফেলেন বিক্ষোভকারীরা। সাংসদকে বাঁচাতে তৃণমূল কর্মীরাও চলে আসেন। তৃণমূল কর্মী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও চলে। তার মধ্যেই পড়ে যান মহুয়া। কোনওরকমে গাড়িতে ওঠার পরও বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি মহুয়া। গাড়িতে তুমুল চড়-চাপড় মারা হয়! গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টাও হয় বলে অভিযোগ। শেষপর্যন্ত গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন সাংসদ।
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মহুয়া মৈত্র জানান, চাপড়া ব্লকে তৃণমূলের কর্মী বৈঠক অত্যন্ত সফল ও উৎসাহব্যঞ্জক হয়েছে। পলাশিপাড়া ও জলঙ্গির বিধায়কদের উপস্থিতিতে অঞ্চলভিত্তিক সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। তাঁকে ঘিরে হওয়া বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সাংসদ বলেন, “দলবদলু ও বিজেপির মদতেই এই বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হচ্ছে।” তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি তাঁদের ‘বেইমান’ কটাক্ষ করেন। দলবিরোধী কাজের জন্য জেলা পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে দলীয় কর্মীদের হেনস্তার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
অন্যদিকে, চাপড়া বিজেপি আইটি সেলের ইনচার্জ গোপাল দাস ও স্থানীয় বাসিন্দা অম্বরজিৎ রায় অভিযোগ করেন, চাপড়ার এলাকায় অশান্তি, মাদক ব্যবসা ও তোলাবাজির রাজনীতির পিছনে মহুয়া মৈত্রের মদত রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু দেবদেবীকে অপমানের অভিযোগেও সাধারণ মানুষ এই কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।