• মধ্যমগ্রামের নামী শপিংমলের ৩ রেস্তরাঁয় বাসি মাংস, মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা! বাতিল লাইসেন্স
    প্রতিদিন | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • রাজ্যের একাধিক জায়গায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। এদিন মধ্যমগ্রামে (Madhyamgram) যশোর রোডের অভিজাত মলে অভিযান চালানো হয়। তিন রেস্তরাঁয় অভিযান চালিয়ে মিলল দু’দিনের পুরনো চিকেন-মটন! ফ্রিজের মধ্যে তৈরি খাবার ও মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা। তাহলে কি এইসব খাবার সাধারণ মানুষদের প্লেটে যাচ্ছিল এতদিন? এইসব অভিযোগ সামনে আসার পরই পদক্ষেপ করা হয়েছে সেগুলির বিরুদ্ধে। তিন রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িক ভাবে বাতিল করল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।

    উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়াতেও অভিযান চালানো হয়েছিল এদিন। খাদ্য দপ্তর, পুরসভার আধিকারিক এবং পুলিশের একটি যৌথ দল রেস্তরাঁয় (Restaurant) অভিযান চালায়। তল্লাশির সময় মজুত রাখা বেশ কিছু মাংসের নমুনা নিয়ে আধিকারিকদের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা যায়, পচা ও ব্যবহারের অনুপযোগী। এরপরই মাংসগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রশ্ন উঠেছে খাবারের মান এবং মাংস সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে। খাদ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে রেস্তরাঁটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। এদিন রাজ্যের একাধিক জায়গায় এই অভিযান চলে বলে খবর।

    খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক ঢুকতেই ফ্রিজ থেকে মাংস সরানোর চেষ্টা হয়! মঙ্গলবার মধ্যমগ্রামের শিশিরকুঞ্জের যশোর রোডের একটি অভিজাত মলে তিন রেস্তরাঁয় অভিযানে বেরিয়ে এল দু’দিনের পুরনো চিকেন-মটন, অর্ধেক তৈরি খাবার ও মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা। একটি রেস্তরাঁর পানীয়ের বোতলেও মিলল ফাঙ্গাস। এরপরই তিনটির লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। অভিযানের সময় মাংস ও তৈরি খাবার সরানোর চেষ্টা নজরে আসে আধিকারিকদের। পরে সেগুলি পরীক্ষা করে কয়েকটি বাসি ও পচা বলে জানান তাঁরা। খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, “নিয়ম না মানার কারণেই লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। তবে ব্যবস্থা শুধরে নেওয়ার জন্য রেস্তরাঁগুলিকে একবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।” অভিযানের পরে একটি রেস্তরাঁর ম্যানেজার রাখাল সিংহ স্বীকার করেন, ফ্রিজে রাখা মাংস দু’দিনের পুরনো ছিল।

    আসানসোল, দুর্গাপুর, দিঘাতেও একাধিক দোকান, রেস্তরাঁয় এদিন অভিযান চালানো হয়। পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকের রূপনারায়ণপুর এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালালো রাজ্যের খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এলাকার একাধিক নামীদামি মিষ্টির দোকান, হোটেল ও রেস্তরাঁয় পরিদর্শন, অভিযান চলে। বেশ কিছু দোকানে ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ-সহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ে। সন্দেহজনক মশলার নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্ডালের একাধিক খাবারের দোকানেও আকস্মিক অভিযানে চলে। খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত ও পুলিশ কর্মীরা। খাবারের গুণগতমান, স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা-সহ আরও বিভিন্ন দিকে নজর দেওয়া হয়। এদিন খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা একাধিক খাবারের দোকানের মালিকদের নোটিস ধরিয়েছেন।

     
  • Link to this news (প্রতিদিন)