• এবার জেন জি কণ্ঠে হনুমান চালিসা পাঠ, তরুণ প্রজন্মকে সনাতন সংস্কৃতিতে সচেতন করাই লক্ষ্য
    প্রতিদিন | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • জেন জি’দের সনাতন সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত করানোই লক্ষ্য। চলতি বছরেই বাংলার ১০০৮ টি জায়গায় হনুমান চালিসা পাঠ করবে জেন জি। আজ, মঙ্গলবার পূজ্য আচার্য শ্রী রামচন্দ্র দাস জি মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই আলোচনা হয়েছে বিরাট সনাতন মহাঅনুষ্ঠান নিয়ে।

    মঙ্গলবার বিকেলে পূজ্য আচার্য শ্রী রামচন্দ্র দাস জি মহারাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই ১০০৮ কুণ্ডীয় যজ্ঞ ও বিরাট সনাতন মহাঅনুষ্ঠান নিয়ে বিস্তারিত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আচার্য শ্রী রামচন্দ্র দাস বলেন, “প্রায় ৫০০ বছর পর বাংলার মাটিতে এত বৃহৎ পরিসরে একটি সনাতন ধর্মীয় আয়োজন হতে চলেছে। এটি সম্ভব হয়েছে বাংলার সেই ধর্মনিষ্ঠ মানুষের কারণে, যাঁরা সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সনাতন-প্রেমী নেতৃত্বের হাতে রাজ্যের দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন।” মুখ্যমন্ত্রী আচার্য শ্রীকে জানান, যে জগৎগুরু শ্রী রামভদ্রাচার্য জি মহারাজ বাংলার পবিত্র মাটিতে এসে এই বিরাট মহাঅনুষ্ঠান সম্পন্ন করার বিষয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর সান্নিধ্য বাংলার সনাতন সমাজের কাছে এক ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক সুযোগ হয়ে উঠবে।

    আচার্য শ্রীর কথায়, “বাংলার মাটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ধর্ম, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনার ভূমি। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস এবং স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এই মাটি থেকেই ভারতীয় অধ্যাত্ম ও সনাতন সংস্কৃতির বার্তা সমগ্র বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন সেই গৌরবময় আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও শক্তিশালীভাবে পৌঁছে দেওয়ার সময় এসেছে। এখন সেই সমস্ত পরিবারকেও তাঁদের শিকড়ের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত করার সময় এসেছে, যাঁরা কোনও কারণে নিজেদের মূল সনাতন পরম্পরা থেকে দূরে সরে গিয়েছেন।

    তাই রামানন্দ মিশন পশ্চিমবঙ্গের ১০০৮টি স্থানে সমবেত হনুমান চালিসা পাঠ আয়োজনের সংকল্প নিয়েছে। এই অভিযানের বিশেষ উদ্দেশ্য হল যুবসমাজ, ছাত্রছাত্রী এবং জেন জি’কে নিজেদের সনাতন সংস্কৃতি, সংস্কার এবং গৌরবময় ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত ও সংযুক্ত করা। আচার্য শ্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে এই উপলব্ধি করানো প্রয়োজন যে সনাতন পরম্পরায় জন্মগ্রহণ করা শুধুমাত্র একটি পরিচয় নয়, বরং হাজার হাজার বছরের সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সৌভাগ্য।
  • Link to this news (প্রতিদিন)