বন্ধ হবে অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস? কড়া নোটিস দমকলের, ৪৮ ঘণ্টায় জবাব তলব
প্রতিদিন | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অভিযানের পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে নোটিস পাঠাল দমকল। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থায় ৬ ধরনের বেনিয়মের উল্লেখ করে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব তলব করা হয়েছে। দমকল জানিয়েছে, ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১০ আগস্ট। বিল্ডিংয়ের ৭ ও ৮ তলায় অভিষেকের অফিসে ফায়ার সেফটি ব্যবস্থায় একাধিক গলদ রয়েছে। সেই কারণেই নোটিস পাঠিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে হাজিরা দিতে বলল দমকল।
বিলবোর্ড নিয়ে অনিময়মের অভিযোগের পর অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ফায়ার সেফটি নিয়েও বেনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। মঙ্গলবার ক্যামাক স্ট্রিটে পাঠানো দমকলের নোটিসে উল্লেখ করা হয়, ৬ ধরনের বেনিয়ম রয়েছে। এই বেনিয়মের জন্য কেন অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিস সিল করা হবে না তার জবাব চেয়েছে দমকল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেই জবাব তলব করা হয়েছে।
কয়েকদিন আগেই ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে বিলবোর্ড লাগানো নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অভিযান চালিয়েছিল পুরসভা। সেই ঘটনায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় অভিষেকের অফিসে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার ক্যামাক স্ট্রিটের ওই বিল্ডিংয়ের ৭ ও ৮ তলায় ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ঠিক ঠাক রয়েছে কি না তার জন্য অভিযান চালায় দমকল। এরপর মঙ্গলবারই বিল্ডিংয়ের মালিক ও ভাড়াটে পক্ষকে দমকলের তরফে একটি নোটিস পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ১০ আগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের ওই অফিসের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেটের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করা হয়নি। অভিযান চালিয়ে ফায়ার সেফটি নিয়ে ৬ ধরনের বেনিয়ম পাওয়া গিয়েছে।
দমকল জানিয়েছে, সপ্তম তলায় আগুন নেভানোর জন্য পর্যাপ্ত জল পাওয়া যায়নি। আগুন লাগলে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য কোনও ফায়ার এক্সিটও নেই। ফায়ার অ্যালার্মও ঠিকঠাক কাজ করছে না। এর পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকটি ফায়ার সেফটিতে গলদ ধরা পড়েছে। ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা ছাড়া বিল্ডিংয়ের কাজ কেন চালানো হচ্ছিল? এই প্রশ্নের জবাব লিখিত আকারে বিল্ডিংয়ের মালিক ও ভাড়াটেকে দিতে বলা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দমকলের ডিরেক্টর-ইনচার্জের কাছে হাজিরা দিয়ে সেই জবাব জমা দিতে হবে।
দমকলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসে বেশকিছু অগ্নিনির্বাপন বিধিনিষেধ মানা হয়নি। সেই কারণে এই মামলায় ফায়ার সেফটি আইনের ৩৭এ ধারা যুক্ত করা হয়েছে।