বাড়ির বাইরে খাটিয়া পেতে ঘুমিয়ে ছিলেন এক যুবক। সেখান থেকেই তাঁকে টেনে নিয়ে গেল লেপার্ড। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূর থেকে উদ্ধার হয় ওই যুবকের দেহ। উত্তরপ্রদেশের বাহারাইচ জেলার এই ঘটনায় নতুন করে ছড়িয়েছে আতঙ্ক।
আগেও বাহারাইচ এলাকায় নেকড়ে-সহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর আক্রমণে প্রাণ গিয়েছে সাধারণ মানুষের। নেপাল সীমান্ত লাগোয়া ওই এলাকায় এই নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা। সেখানেই এ বার লেপার্ডের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে বছর ২৮-এর এক যুবকের।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, বাড়িতেই, বারান্দায় খাটিয়া পেতে ঘুমিয়ে ছিলেন ওই যুবক। মঙ্গলবার ভোররাতে সেখান থেকেই টেনে নিয়ে যায় একটি লেপার্ড। মৃতের নাম রাম সিং (২৮)। ওই হামলার ঘটনা ঘটেছে কাতার্নিয়াঘাট ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের (Katarniaghat Wildlife Division) কাকরাহা রেঞ্জের মেহবুব নগর গ্রামে।
ওই এলাকার বিভাগীয় বনাধিকারিক (DFO) অপূর্ব দীক্ষিত জানিয়েছেন, বাড়ির পিছনে থাকা ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় ওই যুবককে। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে বাড়ির লোকজন তাঁকে দেখতে পাননি। এর পরেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়। পরে, বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার ওই ঝোপের কাছ থেকে রাম সিং-য়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান পরিবারের লোকজন।
খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ এবং বন দপ্তরের কর্মীরা গিয়ে রামের দেহ উদ্ধার করেন। ওই এলাকায় লেপার্ডের পায়ের ছাপ-ও পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বনকর্মীরা।
সরকারি নিয়ম মেনে ওই পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। বনদপ্তরের তরফে আপাতত তাঁদের ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।
ওই এলাকায় সম্প্রতি বন্যপ্রাণী বিশেষ করে লেপার্ডের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ওই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি লেপার্ড ঘুরে বেড়াচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। জনবহুল এলাকায় এবং বসতির মধ্যে এই বন্যপ্রাণী ঘুরে বেড়ানোর ফলে আতঙ্কিত বাসিন্দারা।
ওই এলাকার গ্রামগুলিতে লেপার্ড যে ঘুরে বেড়াচ্ছে তা স্বীকার করেছে বনবিভাগের কর্মীরা। এলাকার ডিএফও জানিয়েছেন, গত ৬ সপ্তাহে কাতার্নিয়াঘাট এলাকায় ধরা হয়েছে ন’টি লেপার্ডকে। সেগুলিকে তাদের উপযুক্ত প্রাকৃতিক আবাসস্থলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ বার, যে এলাকায় ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে সেখানে লেপার্ডটিকে ধরার জন্য খাঁচা পাতার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এই জন্য সিনিয়র আধিকারিকদের অনুমতি চাওয়াও হয়েছে। সেই সঙ্গেই এলাকার বাসিন্দাদের, বিশেষ করে রাতের দিকে, সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বনকর্মীরা। শিশু এবং বয়স্কদের একা বাইরে যেতে না দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে তাঁদের।