এই সময়, শিলিগুড়ি: কলকাতা, হাওড়ার পরে শিলিগুড়ি। এবার শিলিগুড়ি পুরসভাতেও বাড়তে চলেছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। ৪৭ ওয়ার্ডের পুরসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি হয়ে দাঁড়াবে ৬৩-তে। এমনই নির্দেশিকা জারি করেছে পুরসভা। ওয়ার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে রাজনৈতিক কাজিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নিজেদের সুবিধার জন্য ওয়ার্ড ভাগ করে পুনর্বিন্যাস করছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তাদের যুক্তি, যেহেতু শিলিগুড়ির তুলনায় ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভায় বিজেপির শক্তি বেশি, সেই কারণে পুরসভার ওই অংশে ওয়ার্ড বাড়ানো হয়েছে। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ মানতে নারাজ পদ্ম শিবির।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দার্জিলিং জেলার অন্তর্গত শিলিগুড়ি বিধানসভায় পুরসভার ১, ৪, ৫, ২৪ ও ৪৬ নম্বর- এই পাঁচটি ওয়ার্ড ভেঙে তৈরি হবে ১১টি ওয়ার্ড। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি জেলার মধ্যে থাকা ৩১. ৩৩, ৩৪, ৩৭, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩ ও ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডগুলিকে ভেঙে সংখ্যা বাড়ানো হবে। ন'টি ওয়ার্ডের জায়গায় এই অংশে গঠিত হবে ১৯টি ওয়ার্ড। পুরসভার শুধুমাত্র ৪০ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড দু'টি ভেঙে তিনটি করে ছ'টি ওয়ার্ড তৈরি হবে। বাকি প্রতিটি ওয়ার্ড ভেঙে দু'টি করে ওয়ার্ড তৈরি করবে পুরসভা। এ ভাবে ওয়ার্ড বাড়ানোর বিষয়টিকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'বর্তমানে নির্বাচিত বোর্ড নেই। একজন আধিকারিকের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত হয়নি। নিয়ম মতো সর্বদলীয় বৈঠক এবং অভিযোগ ও মতামত গ্রহণের সুযোগ থাকা উচিত ছিল। হাওড়া এবং কলকাতা পুরসভায় কিন্তু তেমনটা হয়নি। এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।'
গত পুরবোর্ডের ২২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার সিপিএমের দীপ্ত কর্মকার বলেন, 'নিজেদের স্বার্থে ওয়ার্ড বিভাজন হয়েছে।' শহরের প্রাক্তন মেয়র গৌতম দেব বলেন, 'পুরসভা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার একটা পদ্ধতি থাকা উচিত। পাবলিক হিয়ারিং হওয়া উচিত, ক্লেমস অ্যান্ড অবজেকশন দেওয়া উচিত। মানুষের মতামত নেওয়া এবং সর্বদলীয় বৈঠক করা উচিত ছিল। এ সব কিছুই করা হয়নি। এটাতে মনে হয় কোনও পলিটিক্যাল অ্যাজেন্ডা রয়েছে। সঠিক পদ্ধতি মেনে কিছুই করা হয়নি।'
অন্যদিকে, পদ্ধতিগত ত্রুটির কথা বলে প্রয়োজনে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (কালীঘাটপন্থী) তথা গত পুরবোর্ডের ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলার কুন্তল রায়। তিনি বলেন, 'যদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে সঠিক পদ্ধতি মেনেই ওয়ার্ড ভাগ হয়ে থাকে, তাহলে ২২, ৩২, ৩৬, ৩৮ নম্বরের মতো ওয়ার্ডগুলি ভাঙা উচিত ছিল।' যদিও গোটা বিষয়টিতে কোথাও পদ্ধতিগত ত্রুটি নেই বলেই জানিয়েছেন পুরসভার এক আধিকারিক। তিনি বলেন, 'ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্ট, ২০০৬-এর ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে বেনিয়ম কিছু নেই।'
শিলিগুড়ি পুরসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, 'এখানে রাজনৈতিক সুবিধার কোনও বিষয় নেই। জনসংখ্যার ভিত্তিতে নাগরিক পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টিকেই মাথায় রাখা হয়েছে। পুরসভার মধ্যে অবস্থিত দুই বিধানসভা এলাকাতেই বেশ কিছু বড় ওয়ার্ড রয়েছে। সেই সব ওয়ার্ডকে ভেঙে কোনও ক্ষেত্রে দুটি, আবার কোনও ক্ষেত্রে তিনটি করে ওয়ার্ড তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।' ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'মানুষ সিপিএম-কংগ্রেসকে আগেই বাতিল করেছে। শেষ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল গোটা রাজ্যেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গিয়েছে। ফলে ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলে অনেকে প্রচারে থাকতে চাইছেন।'