এই সময়: পূর্বাভাস ছিল— সোমবার থেকে আকাশ মোটের উপরে পরিষ্কার হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হলো না। গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন ওডিশা, ঝাড়খণ্ড এবং উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপরে টানা ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান করল শক্তিশালী নিম্নচাপ। আর ওই নিম্নচাপের কেন্দ্র ছিল গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উপরেই। পাশাপাশি তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে রইল একটি মৌসুমি অক্ষরেখাও। এই অক্ষরেখাটি জম্মু, চণ্ডীগড়, শাহজাহানপুর, বারাণসী হয়ে নিম্নচাপের কেন্দ্রের উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ ছাড়া একটি ঘূর্ণাবর্তও সক্রিয় রয়েছে ঝাড়খণ্ড ও বিহারের উপরে।
এক সঙ্গে এই তিন শক্তিশালী ওয়েদার সিস্টেমের প্রভাবে সোমবার রাত থেকে কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের উপরে যে তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছিল, তার রেশ রয়ে গেল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত। বিশেষ করে মঙ্গলবার সকালে মহানগরে বৃষ্টির প্রাবল্য ছিল সর্বাধিক। আলিপুর হাওয়া অফিসের রিপোর্ট, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে শহরে ৭০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
কোনও জায়গায় ২৪ ঘণ্টায় ৬৫ মিমি–র বেশি বৃষ্টি হলে সেই ঘটনাকে আবহবিদরা ‘ভারী বৃষ্টি’ বলে উল্লেখ করেন। সেই হিসেবে মঙ্গলবারের ঘটনা ‘ভারী বৃষ্টির’ পর্যায়ে পড়ে। আবহাওয়া দপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, এটি এই মরসুমে শহরে ভারী বৃষ্টির চতুর্থ নজির। এর আগে ২৫ জুন (৮৪.৬ মিমি), ৩ অগস্ট (৮৬.৪ মিমি) এবং ৫ অগস্ট (৭৮.৭ মিমি) ভারী বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় নিম্নচাপটি পশ্চিম, উত্তর–পশ্চিম দিকে এগিয়ে উত্তর ওডিশা এবং ঝাড়খণ্ডের উপর দিয়ে সরে যেতে পারে। তবে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির দাপট কমার সম্ভাবনা নেই। আগামী ২৪ ঘণ্টায় বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূমের মতো দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভারী (৭–১১ সেমি) থেকে অতি ভারী (৭–২০ সেমি) বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকবে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। আবহবিদরা জানিয়েছেন, ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। পাশাপাশি, ৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে সরে গেলেও তার প্রভাবে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।