এই সময়, বারাসত: মঙ্গলবার নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ হলো বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। দায়িত্ব পেলেন নারায়ণ ঘড়াই। আগামী দিনে খালি থাকা বিভাগীয় প্রধান পদেও নিয়োগ হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়েজ হস্টেল বন্ধ।
রাখি উৎসবের দখল নিয়ে অগস্ট মাসের শেষের দিকে ছাত্র সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয় বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়। টিএমসিপি এবিভিপির মধ্যে সংঘর্ষে দু'পক্ষের ছাত্র ও কর্মীরা জখম হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও এবং একদল বহিরাগত এবিভিপি কর্মী ভিতরে ঢুকে বয়েজ হস্টেলে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ না করলেও এবিভিপির অভিযোগের ভিত্তিতে টিএমসিপির চারজন জখম ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে প্রশ্নের মুখে পড়ে দত্তপুকুর থানার পুলিশ।
ধৃত ছাত্রদের খোঁজ নিতে তৎকালীন রেজিস্ট্রার সুবীর বিশ্বাস বারাসত, দত্তপুকুর থানা ও কোর্টেও গিয়েছিলেন। এর জেরে এবিভিপির ছাত্ররা রেজিস্ট্রারের পদত্যাগের দাবি তুলতেই গত ২৭ অগস্ট পদত্যাগ করে বসেন সুবীর বিশ্বাস। তাঁর পদত্যাগের প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা নিয়ে একঝাঁক বিভাগীয় প্রধান ও অধ্যাপকও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর দেবব্রত মিত্রের কাছে। পদত্যাগের তালিকায় ছিলেন বয়েজ হস্টেলের দায়িত্বে থাকা মোহিনী মোহন সর্দার। অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধানদের পদত্যাগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও ফয়সালা হয়নি বলেই বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে।
সুবীর বিশ্বাসের পদত্যাগের পর গত পাঁচ দিন ধরেই রেজিস্ট্রার ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর পর এ দিনই বারাসতের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন রেজিস্ট্রার নিয়োগ করা হয়। নতুন রেজিস্ট্রার নারায়ণ ঘড়াই জুয়োলজির অধ্যাপক। এ দিনই তিনি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। আগামী দিনে খালি পড়ে থাকা বিভিন্ন পদেও নতুন করে নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়েজ হস্টেল চালু হয়নি। ফলে হস্টেল ছেড়ে যাওয়া পড়ুয়ারা ফিরতে পারছেন না। এক ছাত্র শরিফ দফাদার বলেন, 'আমি বনগাঁয় থাকি। অত দূর থেকে প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ক্লাস করতে খরচ অনেক। বয়েজ হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করতাম। কিন্তু হস্টেল বন্ধ থাকায় ক্লাস করতে সমস্যা হচ্ছে।'