ইঁদুরের উৎপাতে নাজেহাল পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। কয়েকশ ইঁদুর ঢুকে পড়েছে মন্দির চত্বরে। ইঁদুরের দল ঢুকে পড়েছে গর্ভগৃহেও। কেটে দিচ্ছে জগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রার পোশাকও। সেই সঙ্গে ক্ষতি করছে বিগ্রহের। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় খুঁজছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। জগন্নাথ মন্দিরের নিয়ম অনুসারে, সেখানে কোনও প্রাণীকে হত্যা করা যায় না। তাই ইঁদুরের দলকে ধরার জন্য সেখানে খাঁচা পাতার চিন্তাভাবনাও হচ্ছে।
শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রশাসন কমিটির (Shree Jagannath Temple Administration) মুখ্য প্রশাসক অরবিন্দ পাধি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ইঁদুর নয়, আরশোলাও ঢুকে পড়েছে মন্দিরের গর্ভগৃহে। তবে এই সমস্যা নতুন নয়। আগেও একই রকম সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তিনি জানান, কোভিডের সময়েও একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ২০২৩ সালেও প্রথাগত পেস্ট কন্ট্রোল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ বারও একই পদ্ধতি ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, দিন কয়েক আগেই এই নিয়ে বৈঠকে বসেন শ্রীজগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। সেখানেও এই নিয়ে আলোচনা করা হয়। ঠিক হয়েছে, গর্ভগৃহে খাঁচা পেতে ইঁদুর ধরা হবে। পরে সেগুলি অন্যত্র ছেড়ে দিয়ে আসা হবে। আপাপত ইঁদুর ধরা জন্য মাটির পাত্রে খাবারের সঙ্গে আঠালো পদার্থ মিশিয়ে তা রাখা হয়েছে মন্দিরের গর্ভগৃহে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াকেও এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। কীভাবে এই সমস্যা মেটানো যায় তা নিয়ে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI)-র পরামর্শও গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা।
পুরীর মন্দিরের সেবাইত এবং অন্যান্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সেখানে বেড়েছে আরশোলা এবং ইঁদুরের সংখ্যা। আরশোলা এবং ইঁদুরের দল গর্ভগৃহেও ঢুকে সমস্ত জিনিস নষ্ট করছে এবং কেটে ফেলছে। বিগ্রহের জামাকাপড় কেটে নষ্ট করছে। সেই সঙ্গে নোংরা হচ্ছে গর্ভগৃহ। ফলে সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে মন্দিরে রাখা কাঠের বিগ্রহগুলি। সমস্যা হচ্ছে নিত্যপুজোর। অবিলম্বে এই ইঁদুরের উপদ্রব বন্ধ করা না হলে সমস্যা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন সেবাইতরা। মন্দিরে রাখা কাঠের বিগ্রহগুলি একেবারে নষ্ট করে দেবে তারা বলেও আশঙ্কা করছেন সেবাইতরা। ইঁদুরের দল মন্দিরের গর্ভগৃহের দেওয়ালেও ক্ষতি করছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে মন্দির কর্তৃপক্ষের তরফে দ্রুত সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।