নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানে বিধ্বস্ত জনজীবন। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা হাজারের বেশি পেরিয়েছে। ঘটনার পরে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও নিখোঁজের সংখ্যা কমবেশি পাঁচ হাজার। এই পরিস্থিতিতে নেপাল থেকে নদীতে ভেসে আসা যে কোনও মাছ খাওয়াই বিপজ্জনক, এই মর্মে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে বিহার প্রশাসন।
নেপালের হড়পা বানের জের এসে পড়েছে বিহারেও। নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল গণ্ডক এবং কোশী নদী দিয়ে বিহারে ঢুকছে। বিপুল পরিমাণ কাদা গোলা জলের স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় বিহারের নদীগুলিতে জলস্তর বিপদসীমার কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে মানুষ, পশুর মৃতদেহের সঙ্গে ভেসে আসা কোনও মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিহার সরকার।
মঙ্গলবার বিহারের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রকের তরফে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেই নির্দেশিকায় সরকার নেপালের বন্যা কবলিত এলাকার নদীর জলে ভেসে আসা মাছ ধরে বিক্রি না করা এবং না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে, বিহারের একাধিক জায়গায় এমন মাছ খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বন্যার কারণে বহু মাছ নদীর জলের মধ্যে মানুষ, গবাদি পশুর মৃতদেহের সংস্পর্শে এসে থাকতে পারে। এর ফলে এই মাছের দেহের মধ্যে নর্দমার আবর্জনা, ব্যাক্টেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য দূষিত পদার্থও মিশে থাকতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ভেসে আসা কোনও মাছ না খাওয়াই ভালো বলে নির্দেশিকায় জানিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি, কোনও মাছ খেয়ে কোনও ব্যক্তির শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আবেদনও করেছেন সরকার।
তবে, শুধুই মাছ নয়। চিন্তা বাড়াচ্ছে জলদূষণের আশঙ্কা। বন্যার কারণে নেপালে ব্রিজ, বাড়িঘর-সহ নানা পরিকাঠামো ভেঙে গিয়েছে। জলের সঙ্গে মাছ ছাড়াও, কাদাগোলা জল, পাথর, গাছের ডাল, ইট, ভাঙা বাড়ির ভগ্নাবশেষ ইত্যাদি ভেসে আসছে। এই কারণে বিহারের নদীগুলিতে জলদূষণের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আশঙ্কা।
এক নজরে
FAQ
বিহার সরকার কেন নদীর মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে?
নেপালের ভয়াবহ বন্যার কারণে নদীর জলে মানুষ ও গবাদি পশুর মৃতদেহ, আবর্জনা এবং নানারকম ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস মিশে গেছে। এই দূষিত জলে থাকা মাছ খেলে মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই এই মাছ খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন, তাই সরকার মাছ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
নেপালের বন্যার জল কোন নদীগুলো দিয়ে বিহারে ঢুকছে?
নেপালের ত্রিশূলী নদীর জল মূলত গণ্ডক এবং কোশী নদী দিয়ে বিহারে প্রবেশ করছে, যার ফলে সেখানকার নদীগুলোর জলস্তর উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।
মাছ ধরা ও বিক্রির বিষয়ে নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?
বিহারের প্রাণীসম্পদ মন্ত্রকের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ভেসে আসা মাছ নদী থেকে ধরা বা বাজারে বিক্রি করা যাবে না।
বন্যার জলের মাছ খেয়ে কেউ অসুস্থ হলে কী করণীয়?
ভুলবশত এই মাছ খেয়ে কোনও ব্যক্তির শারীরিক সমস্যা বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে, একটুও দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বিহার প্রশাসন।
মাছ ছাড়া বিহারের নদীগুলোতে আর কী বড় সমস্যা দেখা দিচ্ছে?
বন্যার তোড়ে নেপালের ভেঙে পড়া ব্রিজ, বাড়িঘরের ভগ্নাবশেষ, কাদা, পাথর এবং গাছের ডাল নদীর জলে ভেসে বিহারে আসছে। এর ফলে নদীগুলোতে মারাত্মকভাবে জলদূষণ বাড়ছে, যা প্রশাসনের চিন্তার অন্যতম কারণ।