• ধেয়ে আসছে গঙ্গা, বন্ধ ৯ স্কুল, পড়ুয়াদের পঠনপাঠন বিকল্প ভাবে চালু রাখতে নির্দেশ
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: মালদায় গঙ্গার ভাঙন ভয়াবহ আকার নিতেই মানিকচক এবং রতুয়া ১ ব্লকের ন'টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধের নির্দেশ দিল জেলা শিক্ষা দপ্তর। এর মধ্যে মানিকচক ব্লকের পাঁচটি এবং রতুয়া-১ ব্লকের চারটি স্কুল রয়েছে। এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে কোনওটি ভাঙনে অর্ধেক তলিয়ে গিয়েছে। আবার কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে মারাত্মক ভাবে ভাঙন চলছে। মঙ্গলবার এই নির্দেশের পরে বিদ্যালয়গুলির পড়ুয়াদের পঠন-পাঠন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ল। যদিও বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল চালু রাখতে বিকল্প জায়গার খোঁজ শুরু করেছে শিক্ষা দপ্তর। জেলা শিক্ষা দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, এরকম ভাঙন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আরও এক ডজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করে দিতে হবে।

    গঙ্গা ও ফুলহার নদীর জলস্তর বৃদ্ধি হওয়ায় ইতিমধ্যেই মানিকচক ও রতুয়া-১ ব্লকের একাধিক নদী তীরবর্তী এলাকায় জল ঢুকেছে। ফলে অনেক জায়গায় স্কুল ভবন পর্যন্ত পৌঁছতে পারছে না ছাত্রছাত্রীরা। কোথাও আবার নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে রয়েছে স্কুল ভবন। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই জলের গ্রাসে চলে গিয়েছে। অন্যদিকে, মণিরামটোলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছাকাছি চলে এসেছে গঙ্গা।

    জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি মলয় মণ্ডল বলেন, 'মানিকচকের ভাট্টাখাট্রিটোলা, আমিনটোলা, পিয়ারিটোলা, সুখদেবটোলা এবং নিউলুটিহার প্রাথমিক বিদ্যালয় আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রতুয়া-১ ব্লকের জিতুটোলা, মণিরামটোলা, পশ্চিম রতনপুর এবং জিয়ারুদ্দিনটোলা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ও একই কারণে বন্ধ রাখা হয়েছে। এইসব বিদ্যালয়ের শতাধিক পড়ুয়ার পঠন-পাঠন চালু রাখার বিষয়ে বিকল্প জায়গা দেখাতে সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

    জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, মালদার মানিকচক, রতুয়া, বৈষ্ণবনগর এলাকার গঙ্গা ও ফুলহার নদীর পরিস্থিতির উপরে প্রশাসনের তরফে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুরে কালিয়াচক ২ ব্লকের পঞ্চনন্দপুর এলাকায় নদী ভাঙন পরিস্থিতি ও সেচ দপ্তরের ভাঙন প্রতিরোধের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সপ্তর্ষি নাগ-সহ বিডিও ও পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্তারা।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চনন্দপুর ঘাট ও ছেক্রটোলা এলাকায় সেচ দপ্তরের তিনটি ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। সেই কাজের বিষয়টি এদিন প্রশাসনের কর্তারা ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। তিনি বলেন, 'ভাঙন পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঙ্গে রাখার বিষয়ে স্থানীয় মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুততার সঙ্গে প্রতিরোধের কাজ চলছে।'

  • Link to this news (এই সময়)