এই সময়: যে কোনও পেশাতেই সহকর্মীর হাতে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আকছার মেলে। আইনি পেশাও যে তার ব্যতিক্রম নয়, তা স্মরণ করালেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ইন্দিরা জয়সিং। মঙ্গলবার ২৯তম ডিএস বরকার মেমোরিয়াল লেকচারে জয়সিংকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার দীর্ঘ কার্যকালে অনেক মহিলা বিচারপতির অভিজ্ঞতা শুনেছি। তাঁরা পুরুষ বিচারপতিদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে আমার কাছে এসেছেন। ঘটনাগুলো জানি বলেই আমার বইয়ে লিখেছি, যৌন হেনস্থা ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ‘ডার্টি সিক্রেট’। কেউ এটা নিয়ে কথা বলতে চান না।’
এই প্রসঙ্গেই একটি ঘটনা শেয়ার করেন অ্যাডভোকেট জয়সিং। জানান, কোনও হাইকোর্টের জাজ অবসর নিলে দায়রা আদালতের মহিলা বিচারকদের একই রঙের শাড়ি পরে লাইন করে দাঁড়াতে হয়, ওই পুরুষ বিচারপতি ডাইনিং রুমে ঢুকলে মহিলা বিচারকদের ফুল ছুড়তে হয়। জয়সিংয়ের কথায়, ‘এটাই হায়ার জুডিশিয়ারির প্রথা, কিন্তু আদতে এটা সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতার প্রতিফলন।’
একবার এক পুরুষ জাজ তাঁর ২৫তম বিবাহবার্ষিকীতে দায়রা আদালতের এক মহিলা বিচারককে আমন্ত্রণ জানিয়ে ‘আইটেম নম্বরে’ নাচতে বলেন! মহিলা জাজ রাজি না হওয়ায় তাঁর চাকরি যায়! জয়সিংয়ের কথায়, ‘এ ধরনের সামন্ততান্ত্রিক প্রথা ও মানসিকতা মহিলা বিচারকদের মাঝে মাঝে বিপর্যস্ত করে তোলে।’ ২০৪৭–এর মধ্যে অন্তত এই চিত্রটা বদলাবে বলে আশাবাদী জয়সিং।
কীসের ভিত্তিতে এতটা আশাবাদী জয়সিং?
তাঁর জবাব, ‘ভারতীয় সংবিধানের ভিত্তিতে। যতদিন নাগরিকরা শাসকদলকে সংবিধান পাল্টানো থেকে আটকে রাখতে পারবেন, ততদিন দেশ সুরক্ষিত।’