বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই তাঁর ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছিল। ৬ বছর পরে সেই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে এফআইআর দায়ের করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে। সংস্থার কোনও এক সিনিয়র অফিসারের নেতৃত্বে তদন্ত হবে।
দিশার মৃত্যুর সঠিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা সতীশ সালিয়ান। বুধবার সেই মামলা ওঠে বিচারপতি এসভি কোতওয়াল এবং বিচারপতি আরআর ভোঁসলের ডিভিশন বেঞ্চে। সতীশের আইনজীবী নীলেশ ওঝা আদালতে অভিযোগ করেন, দিশাকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে অভিযোগ করা হলেও, মুম্বই পুলিশ কোনও এফআইআর দায়ের করেনি। পরিবারের তরফে সিবিআই তদন্তেরও আর্জি জানানো হয়। তাতে রাজি হয়েছে আদালত।
তবে ডিভিশন বেঞ্চ শর্ত দিয়েছে, সন্দেহ করার মতো যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকলে, কাউকে আটক করা যাবে না। আর তদন্তে কিছু পাওয়া না গেলেও, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সুশান্তের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন দিশা। মুম্বই পুলিশের দাবি, ২০২০ সালের ৮ জুন নিজের বাড়ির বারান্দা থেকে পড়ে মারা যান তিনি। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ একে আত্মহত্যা বলেই দাবি করেছিল। কিন্তু দিশার বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণের পরে খুন করা হয়। সেই সময়ে এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে উদ্ধব ঠাকরের ছেলে আদিত্য ঠাকরের নাম। অভিযোগ, তিনি নাকি সেই রাতে এক পার্টিতে ছিলেন। সেখানে ছিলেন দিশাও। ঘটনাচক্রে, দিশার মৃত্যুর কিছু দিন পরেই সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাতে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়।