• সমুদ্রের ৬০০ মিটার গভীরে খোঁজ ‘আরবিয়ান স্কেট’-এর নয়া প্রজাতির
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: আরব সাগরের গভীর জল এবার সামুদ্রিক জীববৈচিত্রের নতুন ঠিকানা। ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে সমুদ্রের ৪০০ থেকে ৬০০ মিটার গভীরতায় জ়ুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (জ়েডএসআই) বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন নতুন প্রজাতির একটি ‘স্কেট’।

    বাঙালিরা অবশ্য এই জাতীয় জলজ প্রাণীকে শঙ্কর মাছ বলেই চেনেন। সদ্য খোঁজ পাওয়া প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম সংস্থার ডিরেক্টর ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ‘ডিপটুরাস ধৃতি’ রাখা হয়েছে। জ়েডএসআই, আইসিএআর-সেন্ট্রাল মেরিন ফিশারিজ় রিসার্চ ইনস্টিটিউট (সিএমএফআরআই) এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের যৌথ গবেষণায় এই আবিষ্কারটি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    গভীর সমুদ্র এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে বেশিটাই অজানা। সেই অজানা জগতের জীববৈচিত্র অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই কেন্দ্রীয় ভূবিজ্ঞান মন্ত্রকের ‘ডিপ ওশান মিশন’-এর অধীনে ‘ডিপ সি কনড্রিকথিয়ানস অফ ইন্ডিয়া: ট্যাক্সোনমি, ডিস্ট্রিবিউশন, বায়োলজি অ্যান্ড কারেন্ট স্টেটাস’ প্রকল্পে বিশেষ একটি গবেষণা চালানো হয়। কেরালা উপকূল এবং কন্যাকুমারী থেকে ৮০ কিমি দক্ষিণে সমুদ্রের গভীরের ‘ওয়েজ ব্যাঙ্ক’ অঞ্চলের গভীর জল থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে নতুন প্রজাতিটির পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

    গবেষকদের মতে, প্রাপ্ত স্কেটটির দৈর্ঘ্য ১৩১.৫ সেন্টিমিটার। এর লেজে পাঁচ সারি স্পষ্ট কাঁটা রয়েছে, যা অন্যান্য ঘনিষ্ঠ প্রজাতি থেকে একে আলাদা করেছে। সম্পূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়াল জিনোম বিশ্লেষণেও তার স্বাতন্ত্র্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই প্রজাতির শঙ্কর মাছটির সবচেয়ে কাছের আত্মীয় ‘ট্রাভানকোর স্কেট’-এর সঙ্গে এর জিনগত পার্থক্য ৩.৮ থেকে ৪.৭ শতাংশ।

    তবে নতুন আবিষ্কৃত প্রাণীটি গবেষকদের কাছে পুরোপুরি ‘অপরিচিত’ ছিল না। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটিকে ভুল করে ডিপটুরাস স্প্রিঙ্গেরি বলে মনে করা হতো। গভীর সমুদ্রে চিংড়ি ধরার বাণিজ্যিক ট্রলারে নিয়মিত এরা ধরাও পড়ত। ফলে প্রজাতিটির প্রকৃত পরিচয় সামনে আসায় সংরক্ষণ নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    জে়ডএসআইয়ের অধিকর্তা এবং ডিপ ওশান প্রোগ্রামের প্রধান গবেষক ধৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘গভীর সমুদ্র এখনও অনেকটাই অনাবিষ্কৃত হওয়ায় প্রতিটি সমীক্ষাই সামুদ্রিক জীববৈচিত্র সম্পর্কে নতুন তথ্য জানার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে দেয়।’ তাঁর বক্তব্য, ‘গভীর সমুদ্রের হাঙর ও স্কেট অতিরিক্ত শিকারের জন্য অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে রয়েছে। এদের প্রজনন হার কম, জনসংখ্যা কমে গেলে তা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময় লাগে। তাই কোনও প্রজাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার আগেই তার সঠিক পরিচয় ও বিস্তার সম্পর্কে জানা জরুরি। একমাত্র তাহলেই সেই প্রজাতির সংরক্ষণ পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব।’

  • Link to this news (এই সময়)