• জলমগ্ন হাওড়া শহরে দুর্ভোগ, আশ্বাস মন্ত্রীর
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঘন কালো মেঘে ঢেকেছিল আকাশ। এর পরে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই হাওড়া শহরের একাধিক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কোথাও হাঁটুসমান জল, কোথাও আবার রাস্তার উপর দিয়ে জল বইতে দেখা যায়। তাতে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জনজীবন। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া এবং সাধারণ পথচারী, সবাইকেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়।

    মঙ্গলবার দুপুরে কোনা তেঁতুলতলায় বেনারস রোডে গর্ত থাকার কারণে উল্টে যায় যাত্রিবোঝাই টোটো। আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। দুর্ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্দি হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর। পরিস্থিতি সামাল দিতে এ দিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় পাম্প চালিয়ে জমা জল বের করার কাজ শুরু হয়।

    রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানান, দ্রুত জল নামানোর জন্য হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৭০টি পাম্প চালানো হচ্ছে। তাৎক্ষণিক ভাবে পাম্প চালিয়ে জল নামানোর পাশাপাশি, হাওড়ার জল জমার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উমেশ রাই জানান, আগামী বছরের জানুয়ারি মাস থেকে হাওড়ার নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকার মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হবে। এই মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জল জমার সমস্যা মোকাবিলার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৃষ্টির জেরে এ দিন শিবপুর, হাওড়া ময়দান, সালকিয়া, রামরাজাতলা, ঘুসুড়ি-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়। শিবপুরে আইআইইএসটি ক্যাম্পাসেও জল জমে যায়। বহু জায়গায় রাস্তা কার্যত জলের তলায় চলে যাওয়ায়, যান চলাচল ব্যাহত হয়। জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন পথচারীরাও। বেশ কিছু এলাকায় বৃষ্টির জল দোকানের ভিতরেও ঢুকে পড়ে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। তবে বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় ছোট ছোট স্কুলপড়ুয়াদের।

    সাঁতরাগাছির ভানুমতী স্কুলের সামনে জল জমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। স্কু লের সামনের রাস্তা হাঁটুসমান জলে ডুবে যাওয়ায়, শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় পড়ুয়াদের।

    স্কুল ছুটির পরে বহু অভিভাবককে সন্তানদের কোলে তুলে কিংবা কাঁধে বসিয়ে জমা জল পেরিয়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্কুলপড়ুয়াদের কথায়, সকালে যখন তারা স্কুলে আসে, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আচমকা বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে স্কুলের আশপাশের রাস্তা জলে ডুবে যায়। নোংরা ও জমা জলের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যার পাশাপাশি আতঙ্কেও পড়ে ছোটরা।

  • Link to this news (এই সময়)