এই সময়: সম্প্রতি মোবাইল ফোন এবং আরও কিছু বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে আফতাব আনসারির সেল থেকে। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে এখন বন্দি কলকাতার আমেরিকান সেন্টারের সামনে জঙ্গি হামলা, খাদিমকর্তা অপহরণের মতো মামলায় দোষী সাব্যস্ত আফতাব।
মঙ্গলবার দুপুরে সেই প্রেসিডেন্সি জেলেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সারপ্রাইজ় ভিজ়িটে গিয়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ে বন্দিদের কাছ থেকেই জানতে চান। এ দিন তিনি প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ ও বন্দি, দু’পক্ষের সঙ্গেই কথা বলেছেন।সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ কী ভাবে মনিটর করা হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। সংশোধনাগারের মন্দিরে গিয়ে তিনি আরতিও করেন।
সপ্তাহ খানেক আগে প্রেসিডেন্সি জেলে কারা দপ্তর তল্লাশি চালালে আফতাবের সেল থেকে একটি আইফোন, তিনটি স্মার্টফোন, তিনটি সিমকার্ড, দু’টি রাউটার, দু’টি কার্ড রিডার, ১২৮ জিবি-র একটি পেনড্রাইভ, তিনটি ওটিজি (ওভেন–টোস্টার–গ্রিল), একটি হেডফোন এবং ৫০০ টাকার নোটে মোট ৩১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ দিন বৃষ্টি মাথায় করে মুখ্যমন্ত্রী আচমকা হাজির হন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। বন্দিদের পরিচয় জানার সঙ্গে খাবার ও অন্যান্য পরিষেবা সম্পর্কে তাঁদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে এক বন্দি জানান, তাঁদের দেওয়া হয়েছে রুটি ও তরকারি। মোবাইল ফোন ব্যবহার করা হয় কি না, সেটা শুভেন্দু হিন্দিতে জিজ্ঞেস করেন। হিন্দিতই এক বন্দি উত্তর দেন যে, এ ভাবে ব্যবহার করা হয় না। তাতে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘খুব চালাক।’
সংশোধনাগারে ব্যায়াম করানো হয় কি না, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্নের উত্তরে বন্দিরা ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন। যখন শুভেন্দু সংশোধনাগারের হেঁশেলে ঢোকেন, তখন সেখানে বড় ডেকচিতে রান্না চলছে। রাঁধুনি জানান, বিকেল বা সন্ধের মেনুতে রয়েছে আলু–চালকুমড়োর তরকারি, ছোলা সেদ্ধ, মুগ ডাল। বন্দিরা জানান, তাঁরা ভালো ও পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাচ্ছেন। বিকেলের খাবার ৪টে–সাড়ে ৪টের মধ্যে দিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সেই সময়ের মধ্যে আদালতে হাজিরা দেওয়া বন্দিদের অনেকেই জেলে ফেরেন না।