• ভাজা মাছ-ডিমে ছত্রাক, খাবারেও নিষিদ্ধ রং-সুগন্ধি, অস্বাস্থ্যকর ছবি মুকুটমণিপুরের নানা রেস্তোরাঁয়
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • কোথাও ভাজা মাছ-ডিমে ছত্রাক, কোথাও রেস্তোরাঁর খাবারে নিষিদ্ধ রাসায়নিক রং ও কৃত্রিম সুগন্ধি, কোথাও আবার খাবার তৈরির উপাদানের সময়সীমাই পেরিয়ে গিয়েছে। বাঁকুড়ার খাতড়া মহকুমা সদর এবং রাজ্যের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র মুকুটমণিপুরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁতেও এমনই অস্বাস্থ্যকর ছবি ধরা পড়ল জেলা প্রশাসনের আচমকা অভিযান।

    মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম, সল্টলেকের ৫ নম্বর সেক্টর, কাঁচরাপাড়া-সহ একাধিক জায়গার বিভিন্ন রেস্তরাঁয় খাবারের গুণমান এবং স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে একাধিক অনিয়মের হদিশ পেয়েছিল জেলা খাদ্য দপ্তর। অভিযানে দেখা গিয়েছিল, কোনও রেস্তোরাঁয় পচা মাংস জমিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও আবার খাবারে গজিয়ে উঠেছে ছত্রাক। একই ছবি দেখা গেল বাঁকুড়াতেও।

    সোমবার রাতে খাতড়া বাজারের কমবেশি ১৫টি মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসনের দল। একই সঙ্গে মুকুটমণিপুরের একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁও পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে ছিলেন বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) চিরন্তন প্রামাণিক, খাতড়ার মহকুমা শাসক তাপস ভট্টাচার্য, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক আখতার আলি-সহ জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকেরা।

    প্রশাসনিক সূত্রে খবর, খাতড়ার একটি রেস্তোরাঁয় রেফ্রিজারেটরে রাখা মাংস কেনার কোনও বিল দেখাতে পারেননি মালিক। অন্য একটি খাবারের দোকানে ভাজা মাছ ও ডিমে ছত্রাক দেখা গিয়েছে। কিছু রেস্তোরাঁয় খাবারে ব্যবহারের জন্য নিষিদ্ধ রাসায়নিক রংও পাওয়া গিয়েছে। তার পরেই সতর্ক করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। কয়েকটি জায়গায় গৃহস্থের ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে দেখা যায়। সেগুলি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুকুটমণিপুরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁতেও নানা অনিয়মের ছবি ধরা পড়েছে। কয়েকটি জায়গায় খাবার তৈরির এমন জিনিস পাওয়া গিয়েছে, যার প্যাকেটের গায়ে ব্যাচ নম্বর বা মেয়াদ শেষের তারিখের উল্লেখ নেই। একটি হোটেলে আবার পশুখাদ্যের জন্য ব্যবহৃত বেসনও পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়া অধিকাংশ হোটেলের হেঁশেলেও পরিচ্ছন্নতার অভাব রয়েছে। যে সব দোকান ও রেস্তোরাঁয় অনিয়ম ধরা পড়েছে, তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে সমস্ত ত্রুটি সংশোধন করে নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে সব জায়গায় দ্বিতীয় বা তৃতীয় বার অনিয়ম ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে খাদ্য সুরক্ষা আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে।

    অতিরিক্ত জেলাশাসক চিরন্তন প্রামাণিক বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় মেয়াদ-উত্তীর্ণ সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। রান্নাঘর এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও চরম উদাসীনতা রয়েছে। এমন কিছু অনুমোদনহীন ফুড কালার ও এসেন্স ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলি খাবারে ব্যবহার করা যায় না। এই সমস্ত অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে তা সংশোধন করতে বলা হয়েছে। কিছু জায়গায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার অভিযান চলছে। তাদের ক্ষেত্রে অ্যাডজুডিকেশনের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না। খাবারের ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)