• ‘লালকেল্লার বিস্ফোরণের অর্থ জুগিয়েছেন’, ভিডিয়ো কলে হুমকি, চরম বিপদে পড়লেন অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী
    এই সময় | ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং বা অন্য কোনও গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ দীর্ঘদিন ধরেই চালিয়ে আসছে অপরাধীরা। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হলো দিল্লিতে লালকেল্লার সমানে গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনাও। ২০২৫ সালের রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ মামলায় নাম জড়ানোর ভয় দেখিয়ে এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হরিয়ানার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

    পুলিশ সূত্রে খবর, দ্বারকার বাসিন্দা ওই অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় রেলকর্মীর সঙ্গে ফোন এবং WhatsApp ভিডিয়ো কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রতারকরা। সেই ভিডিয়ো কলে ভারতীয় রেলকর্মীকে ATS, NIA এবং RBI-এর আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় তারা। রেলকর্মীকে জানানো হয়, রেড ফোর্টের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছে। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়।

    ভারতীয় রেলকর্মীকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্যে প্রতারকরা তাঁকে একাধিক জাল নথিও পাঠায়। এর মধ্যে ছিল তথাকথিত গোপনীয়তা চুক্তি, RBI-এর ভুয়ো নথি এবং ‘লিগালাইজেশন বন্ড’। ওই অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীকে গ্রেপ্তারির ভয় দেখানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ দিতে থাকে প্রতারকরা। তাঁকে একা থাকতে বলা হয়। ফোন ও ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়। এর পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ফিক্সড ডিপোজিট এবং অন্যান্য সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য জানতে চাওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে এর পরে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা।

    প্রতারিত হওয়ার পরেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন। ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ৩০ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৫ লক্ষ টাকা ‘শ্রী বালাজি ট্র্যাক্টর’ নামে একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টটি হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা সুনীল সিংলার নিয়ন্ত্রণে ছিল। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের AGS টিম সুনীল সিংলাকে গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্তের ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আরও সাতটি সাইবার প্রতারণার মামলার যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে।

    এই ধরনের প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। কিছুদিন আগেই লখনউয়ের এক অবসরপ্রাপ্ত FCI কর্মী এবং তাঁর স্ত্রীকে একই ধরনের প্রতারণার ফাঁদে ফেলা হয়। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে প্রায় ৪২.০৯ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

    প্রশ্ন: দিল্লির অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর সঙ্গে কী ঘটেছে?

    উত্তর: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে ফেলে দিল্লির দ্বারকার এক অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মীর কাছ থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: কী বলে ওই ব্যক্তিকে ভয় দেখানো হয়েছিল?

    উত্তর: প্রতারকরা নিজেদের ATS, NIA ও RBI-এর আধিকারিক পরিচয় দিয়ে দাবি করে, ২০২৫ সালের রেড ফোর্ট বিস্ফোরণ মামলায় ওই ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে।

    প্রশ্ন: কীভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়?

    উত্তর: ফোন ও WhatsApp ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁকে দীর্ঘ সময় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো পরিস্থিতিতে রেখে তদন্তের নামে টাকা হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়।

    প্রশ্ন: এই ঘটনায় কত টাকা প্রতারণা হয়েছে?

    উত্তর: অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    প্রশ্ন: ঘটনায় কি কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে?

    উত্তর: হ্যাঁ। দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।

    প্রশ্ন: ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ কি সত্যিই কোনও আইনি প্রক্রিয়া?

    উত্তর: না। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ কোনও বৈধ আইনি প্রক্রিয়া নয়। সাধারণত সাইবার প্রতারকরা পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে।

  • Link to this news (এই সময়)