বাড়ির ছাদ থেকে উদ্ধার তরুণী কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারের নিথর দেহ। গলায় জড়ানো পাজামার দড়ি এবং মোবাইল চার্জারের তার। মুখ ঢাকা ছিল প্লাস্টিকের ব্যাগে। সুরাটের গোদাবাড়ি গ্রামের এই ঘটনায় এক সপ্তাহ পরেও খুনির হদিশ পায়নি পুলিশ। তদন্তকারীদের সন্দেহ, আততায়ী মৃতার পরিচিত হতে পারে। তবে এখনও কাউকে অভিযুক্ত করার মতো প্রমাণ মেলেনি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ মেলেনি।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতা তরুণীর বয়স ২২ বছর। গত ২৪ অগস্ট সকালে বাড়ির ছাদ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। সেই সময়ে বাড়িতে তিনি একাই ছিলেন। তাঁর বাবা-মা গিয়েছিলেন তীর্থযাত্রায়। বাড়িতে ফিরে তাঁরাই ছাদে মেয়ের দেহ দেখতে পান।
তদন্তকারীদের মতে, বাড়ির নীচের তলায় তরুণীকে খুন করার পর দেহ ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত বেঁধে এবং মুখে প্লাস্টিকের ব্যাগ পরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গলায় পাজামার দড়ি ও চার্জারের তার পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় বলে অনুমান। গলায় সেই চিহ্নও মিলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তরুণীর শরীরের গোপনাঙ্গের আশপাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। ফলে যৌন নিগ্রহের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে এখনও ধর্ষণের প্রমাণ মেলেনি।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি তদন্তকারীদের বেশ কিছু জিনিস আরও ভাবাচ্ছে। বাড়ির সামনের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল, কিন্তু পিছনের দরজা খোলা ছিল। জোর করে বাড়িতে কারও ঢোকার কোনও চিহ্ন নেই। তাই পরিচিত কেউ বাড়িতে এসেছিল বলে সন্দেহ পুলিশের। তরুণী ইঞ্জিনিয়ারের মোবাইলও প্রথমে পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির পিছনের একটি জলভর্তি গর্ত থেকে ফোনটি উদ্ধার হয়। ফোনের কল রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনার সময়ে মৃতার বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। ২৩ অগস্ট সারাদিন বাড়িতে একাই ছিলেন তিনি। তার আগের দিন তাঁর এক আত্মীয় স্বামী ও ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। পরে তাঁরা চলে যান।
তদন্তে নেমে বিশাল সংখ্যক মানুষের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। গ্রামের প্রায় ৯০০ জনের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়। পাশাপাশি মৃতার পরিবার, বন্ধু এবং পরিচিত-সহ প্রায় ৮৫ জনকে এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছাপের সঙ্গে এখনও কারও ছাপ মেলেনি।
বাড়ির আশপাশে কোনও CCTV ক্যামেরাও ছিল না। ফলে ক্যামেরার ফুটেজ থেকে আততায়ীকে শনাক্ত করার সুযোগও নেই। তদন্তকারীরা এখন এলাকার মোবাইল টাওয়ারের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।
তদন্তে গতি আনতে সুরাট পুলিশ সুপার ৬০ জন পুলিশকর্মীকে নিয়ে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছেন। মাণ্ডভি ডিভিশনের ASP অক্ষেশ ইঞ্জিনিয়ারের নেতৃত্বে চলছে তদন্ত। ইতিমধ্যে সন্দেহের ভিত্তিতে এক দম্পতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কিন্তু কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের কোনও শত্রু ছিল বলে তিনি জানেন না। ফলে কেন তাঁকে খুন করা হল, আততায়ী কে এবং কেন দেহটি ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল—সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। মোবাইল ডেটা, ফিঙ্গারপ্রিন্ট, টাওয়ার লোকেশন ও পরিচিতদের বয়ান খতিয়ে দেখে রহস্যের সমাধানের চেষ্টা করছে পুলিশ।