চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন এক ব্যক্তি, তার পর থেকে আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার নিখোঁজ হওয়ার পরে বাড়ির লোকজন দিনভর তল্লাশি চালিয়েও খোঁজ পাননি। শেষ পর্যন্ত বুধবার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলায় সিঁড়ির ঘর থেকে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হলো। বীরভূমের নাকড়াকোন্দা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলার সিঁড়ির থেকে ওই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতের নাম সন্তোষ মণ্ডল (৫৫)। তিনি লোকপুর থানার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সূত্রের খবর, প্রথমে সোমবার সন্তোষ ওই হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। তারপরে মঙ্গলবার আরও একজনকে নিয়ে ওই হাসপাতালে যান সন্তোষ। তাঁকে নিয়ে ফিরেও এসেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। হাসপাতালের একটি সূত্রের খবর, তার পরে ফের ওই হাসপাতালে গিয়েছিলেন সন্তোষ। মঙ্গলবারের পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছিল না।
সন্ধের পরেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এরপরে গ্রামবাসী ও আত্মীয়রা মিলে রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তাঁর খোঁজ চালান। পরিবারের দাবি, বিষয়টি স্থানীয় থানাতেও মৌখিক ভাবে জানানো হয়েছিল। বুধবার ওই ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দোতলার সিঁড়ির ঘরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান হাসপাতালের কর্মীরা। এরপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় লোকপুর থানার পুলিশ। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে পরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সদর হাসপাতালে পাঠায়।
মৃতের শ্যালক বীরেন গোপের দাবি, স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া এবং পরিবারের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়া নিয়ে অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বারবার ঘুরেও কোনও সুরাহা না মেলায় তিনি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবারের দাবি।
যদিও ঠিক কী কারণে এই মৃত্যু, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সার্বিক তদন্তের পরেই মৃত্যুর আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনা প্রসঙ্গে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শুভব্রত ঘোষ বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।’