• কেন্দ্রের আরজিতে সুপ্রিম সায়, ককরোচ হুমকিতে দেশজুড়ে এফআইআর প্রত্যাহার
    বর্তমান | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবার আন্দোলন—ককরোচদের এক হুমকিতেই কাজ হল! তারুণ্যের তেজের সামনে আবারও মাথা নত করতে বাধ্য হল মোদি সরকার।  ২০ থেকে ২৫ জুলাই নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ-বিক্ষোভ দমনে দিল্লি, অসম, মহারাষ্ট্র, বিহার এবং পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ যে ১২৯টি এফআইআর করেছিল, তা বাতিল করতে কেন্দ্র সোমবারই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই আবেদন গ্রহণ করে দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব এফআইআর বাতিল করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২ প্রয়োগ করে এই নির্দেশ দেওয়া হল। ফলে কলকাতার এন্টালি এবং হেয়ার স্ট্রিট থানায় যে আটটি এফআইআর হয়েছিল, তার আর কোনো অস্তিত্ব রইল না। স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এদিন শুনানির সময়ে স্পষ্টভাষায় বলেছেন, ‘বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কোনো অপরাধ নয়।’

    শুধু ২০-২৫ জুলাই সময়কালে ছাত্র-যুবর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহারেই থামেনি কেন্দ্র। দেশের সলিসিটর জেনারেল তথা রাজ্যগুলির আইনজীবী তুষার মেহতা জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতেও এ নিয়ে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর করা হবে না। এমনকি ককরোচ পার্টির তৃতীয় দাবিটিও মেনে নিয়েছে মোদি সরকার। এদিন বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চের সামনে তুষার মেহতা জানান, নিট কেলেঙ্কারির অভিযোগের জেরে যারা আত্মহত্যা করেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে তাঁদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। যদিও কত টাকা দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। বলেছেন, ‘কেন্দ্র প্রতিশ্রুতি পালন করতে জানে। তাই দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর (জে পি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং) সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের বৈঠকে যে তিনটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেকটি কার্যকর করা হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়ম প্রক্রিয়া তৈরি করতে সময় লাগবে। তাই সময় চাইছি।’

    বিক্ষোভকারী ছাত্র-যুবদের এফআইআর থেকে মুক্তি দিলেও দিল্লি পুলিশ কিন্তু অপরাধের রেকর্ড থাকা ২ হাজার ৮৭৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা বাতিল করতে রাজি নয়। যন্তরমন্তর সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত ২০-২৫ জুলাই বিক্ষোভ চলাকালীন সময়ে তোলা ভিডিয়ো থেকে ‘ফেসিয়াল রেকগনিশন ট্রিটমেন্টে’ তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আদালত এই এফআইআরের অনুমোদন দিয়েছে। যদিও তাদের নামের কোনো তালিকা শীর্ষ আদালতকে জানাতে চায়নি দিল্লি পুলিশ। আবেদনকারীদের অন্যতম আইনজীবী এন হরিহরণ ওই তালিকার পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিল হল, সেই তালিকাও চান। কিন্তু তা দিতে অস্বীকার করেন তুষার মেহতা। বলেন, ‘অহেতুক আর জটিল করবেন না। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য মোতাবেক যারা অতীতে ক্রিমিনাল কাজকর্মে অভিযুক্ত, যন্তরমন্তর আন্দোলনের ভিড়ে ছিলেন, তারাই ওই ২ হাজার ৮৭৩ জন।’ তাঁর সাফ বক্তব্য, ‘সবচেয়ে বড়ো কথা সাধারণ ছাত্রদের উপর তো এফআইআর বাতিল করা হচ্ছে!’ 

    দিল্লি পুলিশ এবং রাজ্যগুলির পক্ষে ইতিবাচক উদ্যোগে খুশি সিজেপি।  প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত সংগঠনের মুখপাত্র সৌরভ দাস মোবাইল খুলে একটি বিবৃতি পাঠ করেন। বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের সুবিচার এবং কেন্দ্রের উদ্যোগে আমরা সন্তুষ্ট। তাই ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে যে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।’ কেন্দ্র এবং সিজেপি, উভয়ের এই অবস্থান দেখে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যারই সমাধান হয়ে যায়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া যায়ই, তবে ছাত্রছাত্রীদের উচিত কীভাবে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায় তাতে জোর দেওয়া।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)