• ফ্রিজে বাসি মাংস, পানীয়ে ছত্রাক! একাধিক রেস্তরাঁর লাইসেন্স বাতিল
    বর্তমান | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ‘খাদ্য নিরাপত্তা সপ্তাহ’ চলছে। সেই সূত্রে মঙ্গলবার দিনভর উত্তর ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে হোটেল, রেস্তরাঁ, ফাস্ট ফুডের দোকানে অভিযান চালাল খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। তাদের সঙ্গে স্থানীয় পুরসভা, পুলিশ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ একযোগে অভিযান চালিয়েছে। আর এই অভিযানে কোথাও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বাসি মাংস, কোথাও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার। একাধিক ক্ষেত্রে ব্যবসার লাইসেন্স পর্যন্ত বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। 

    মধ্যমগ্রামের একটি অভিজাত শপিং মলের তিনটি রেস্তরাঁয় এদিন অভিযান চালায় জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। সেখান থেকে বাসি ও পচা মাংস, মেয়াদোত্তীর্ণ মশলা এবং ছত্রাক ধরা পানীয়ের বোতল বাজেয়াপ্ত করা হয়। অনিয়ম ধরা পড়ায় এই তিন রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। মধ্যমগ্রামের যশোর রোডের ধারে এই শপিং মলের ফুড কোর্টে রয়েছে তিনটি রেস্তরাঁ। অভিযোগ, আধিকারিকরা পৌঁছাতেই ফ্রিজে রাখা বেশ কিছু খাবার ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন সেখানকার কর্মীরা। তাতে ছিল চিকেন, মাটন এবং অর্ধেক তৈরি খাবার। দু’দিন ধরে ফ্রিজে রাখা মাংসও সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছিল। ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল কয়েকটি মশলার প্যাকেট। বিষয়টি নজরে আসতেই কর্মীদের আটকান আধিকারিকরা। দপ্তরের আধিকারিক প্রসেনজিৎ বটব্যাল বলেন, ‘একাধিক অনিয়মের জম্য তিনটি রেস্তরাঁর লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সংশোধনের জন্য রেস্তোরাঁগুলিকে একবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।’ এদিন বাদুড়িয়ার দিদিমণি রোড এলাকার একটি নামী রেস্তরাঁয় অভিযান চালায় খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ টিম। সেখান থেকে কেজি কেজি মুরগি ও খাসির পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়। 

    এদিন বনগাঁয় অভিযান চালিয়ে একাধিক বিরিয়ানির দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। ফুড সেফটি শাখা ও বনগাঁ পুরসভার আধিকারিকরা যৌথভাবে বেশ কয়েকটি দোকানে হানা দেন। খতিয়ে দেখেন খাবারের মান। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী, বাসি ও পচা মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়। ব্যবসার অনুমতিপত্র সঠিক না থাকায় ও অনিয়ম সামনে আসায় বনগাঁ কালীবাড়ি এলাকায় একটি ও মতিগঞ্জ এলাকায় দু’টি দোকান সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। গোপালনগরের একাধিক রেস্তরাঁতে হানা দেন আধিকারিকরা। সেখানেও খাবারের মান নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসে। বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ মজুমদার বলেন, ‘আগেও এই দোকানগুলিকে সতর্ক করা হয়েছিল।’

    বারাকপুর, কাঁচরাপাড়াতেও চলে একই ধরনের অভিযান। শহরের বিভিন্ন বিরিয়ানির দোকান ও মিষ্টির দোকানে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ ও খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। রান্নার জায়গাও তাঁরা ঘুরে দেখেন। এই ধরনের ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স আছে কি না, খতিয়ে দেখা হয়। যদি না থাকে, তাহলে তা দ্রুত করিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে গিয়ে বন্দিদের কেমন মানের খাবার দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং। জেলের বিভিন্ন সেল ঘুরে দেখেন তিনি।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)