নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ‘অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য’ বলে অভিযোগ শোনা যায়। এই এলাকায় চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রায়শই ঘটে। ভিড়ের মধ্যে মিশে গিয়ে সহজে চম্পট দিতে পারে দুষ্কৃতীরা। সেই সঙ্গে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় অন্যান্য অবৈধ কাজকর্মের অভিযোগও রয়েছে। এই চত্বরে এরকম নানাবিধ অপরাধমূলক কাজকর্ম রোধ করতে বসানো হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ক্যামেরা। কন্ট্রোল রুম থেকে সারাক্ষণ এই ক্যামেরার মাধ্যমে চলবে নজরদারি। একই সঙ্গে হাওড়া স্টেশনে নামা মানুষজনের বাস ধরতে যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য ডিসপ্লে বোর্ড বসনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ।
হাওড়া স্টেশনে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ যাতায়াত করেন। সবাইকেই গন্তব্যে যেতে বাস, ট্যাক্সি বা গাড়ি ধরার জন্য বাইরে আসতে হয়। ভিন রাজ্য বা দূরের জেলা থেকে আসা অনেকেই বুঝতে পারেন না, কোথায় গেলে তাঁরা বাস বা ট্যাক্সি পাবেন। কারণ নির্দিষ্ট কোনো সাইনেজ নেই। বাইরে বেরিয়ে অনেকেই অপরাধীদের খপ্পরে পড়েন। ছিনতাই হয়ে যায় সোনার চেন বা মোবাইল। ভিড়ের মধ্যে দুষ্কৃতীরা ঢুকে ব্যাগ কেটে বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে পালায়। এমনকি, সাহায্য করার নামে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে। সেই সঙ্গে এমন ব্যস্ত একটি জায়গায় লুকিয়ে চুরিয়ে চলছে সাট্টা, গাঁজা বা অবৈধ মদের ঠেক। সেখানে অপরাধীরা ভিড় করছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে বেড়াচ্ছে। হাওড়া স্টেশন লাগোয়া এলাকায় নজরদারির জন্য ক্যামেরা রয়েছে। কিন্তু তার সিংহভাগই খারাপ। যে ক’টি কার্যকর রয়েছে, তার ছবির মান এতটাই খারাপ যে তা থেকে কাউকে চিহ্নিত করা দুষ্কর। এই অবস্থায় বড়ো কোনো নাশকতা ঘটলে অভিযুক্তদের শনাক্ত করাই সম্ভব হবে না। তাই বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে শুধু স্টেশন চত্বরেই ৪০টি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ। একটি শিল্পসংস্থা পুলিশকে এই কাজে সাহায্য করবে। ‘অটোমেটেড নম্বর প্লেট রেকগনিজেশন’ সিস্টেমযুক্ত এই ক্যামেরায় যে কোনো গাড়ির ছবি নম্বর প্লেটসহ আকও স্পষ্টভাবে ধরা পড়বে। বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটালেও উঠে আসবে ছবি। সেই সঙ্গে এলাকায় নজরদারিতে থাকবে নাইট ভিশনযুক্ত অত্যাধুনিক ক্যামেরা। এর পাশাপাশি, হাওড়া স্টেশনে আসা যাত্রীরা যাতে নির্দিষ্ট রুটের বাসে উঠতে পারেন, তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বাসের নম্বরসহ সংশ্লিষ্ট রুট ডিসপ্লে বোর্ডে ভেসে উঠবে। স্টেশন থেকে বেরনো যাত্রীরা ওই বোর্ড দেখেই বাসের লাইনে দাঁড়াবেন। স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট তৈরির জন্যও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে পুলিশ।