দেশের জিডিপি বৃদ্ধির ‘সত্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন প্রাক্তন অর্থসচিবের! পালটা অর্থনীতিবিদদের ‘বেকার’ বললেন মন্ত্রী
প্রতিদিন | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার কি সত্যিই ৭.৮ শতাংশ? প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন দেশের প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ। জিডিপি বৃদ্ধি নিয়ে সরকার যে পরিসংখ্যান দিয়েছে, সেটাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন রঘুরাম রাজন-সহ আরও কয়েকজন অর্থনীতিবিদ। এবার এই সব অর্থনীতিবিদদের একহাত নিলেন কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি বলে দিলেন, “যারা জিডিপি বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা আসলে কর্মহীন নিন্দুক। এঁরা দেশের কোনও কাজে লাগে না।?”
একদিন আগেই কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ এক্স হ্যান্ডেলে জানান, চলতি অর্থবর্ষে জিডিপির এই বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে ভারতীয় জনতা ও তাঁদের কঠোর শ্রম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সংবাদসংস্থা এএনআইকে জানিয়ে দেন, জিডিপি বৃদ্ধির হার বুঝিয়ে দিচ্ছে যাঁরা সবটায় ‘গেল গেল’ রব তোলেন, তাঁদের হতভম্ব করে দিয়ে এগিয়ে চলেছে দেশ। আমাদের জনগণের সমবেত শক্তির কারণেই বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা, তেলের দামের আকস্মিক ওঠানামা এবং সরবরাহজনিত সমস্যা সত্ত্বেও ভারত এই বৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই কেন্দ্রের দেওয়া ওই জিডিপি তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায়। প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গার্গ প্রশ্ন তোলেন, “৭.৮ শতাংশ চোখে দেখতে ভালো লাগছে। কিন্তু বাস্তবটা বোঝা দরকার। গত বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেও ৭.৮ শতাংশ হারে GDP বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছিল। পরে সংশোধন করে তা নামিয়ে আনা হয় ৬.৯ শতাংশে। ফলে দেশের মোট জিডিপির মূল্য ৮৬ লক্ষ কোটি থেকে নেমে ৮০ লক্ষ কোটি হয়ে যায়। এখন গত বছরের GDP বৃদ্ধির হার সংশোধন না করা হলে, বর্তমান বাজার মূল্য অনুযায়ী বৃদ্ধির হার হতো ২.৬ শতাংশ।” রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজনও মোদি সরকারের সাম্প্রতিক GDP বৃদ্ধির হার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বৃদ্ধির এই হার কি সঠিক? বৃহত্তর ক্ষেত্রেও উদ্বেগ চোখে পড়ছে। কিছু গড়বড় রয়েছে। নাহলে চাকরি, কর্মসংস্থান কেন নেই?”
যদিও সরকার এসব সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল সাফ বলে দিচ্ছেন, “কিছু কর্মহীন মানুষ টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেয় আর নিজেদের অর্থনীতিবিদ বলে দাবি করে। এরা সবসময় ফাঁকফোকর খোঁজে। দেশের ১৪০ কোটি জনতা যে জিডিপি বৃদ্ধির পিছনে পরিশ্রম করেছে সেটা ওরা মানতে পারছে না। আসলে হজমই হচ্ছে না যে ওরা ছাড়া আর কেউ কর্মহীন নয়। এরা দেশের কোনও কাজে লাগে না।” গোয়েলের সাফ কথা, “কিছু বেকার লোকজন টিভিতে গিয়ে সাক্ষাৎকার দেয় আর দেশের ক্ষতি করে।”