এই সময়, ঘাটাল: একে বৃষ্টি তার উপরে জলাধার থেকে দফায় দফায় জল ছাড়ায় চিন্তা বেড়েছে ঘাটালের। শিলাবতী, ঝুমি নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়েছে। জলাধার থেকে জল ছাড়ার প্রভাব সরাসরি ঘটালের নদীগুলিতে পড়ে না। তবে দুর্গাপুর ব্যারাজের ছাড়া জল দ্বারকেশ্বর হয়ে ঘাটালের ঝুমি নদীতে এসে পড়ে। এ দিন দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে রাত পর্যন্ত ১ লক্ষ ১১ হাজার ৪০০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দ্বারকেশ্বর হয়ে সেই জল ঝুমি নদীতে আসতে আরও ২৪ ঘণ্টা। কিন্তু বৃষ্টির জলে এমনিতেই ঝুমির জলস্তর বেড়েছে। জলাধার থেকে ছাড়া জল এসে নদীতে মিশলে জলস্তর বিপদসীমা ছুঁয়ে যাওয়ার আশঙ্কা।
বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে কংসাবতী জলাধার থেকে ছাড়া জল দাসপুরের রাজনগর হয়ে ঘাটালে শিলাবতী নদীতে মেশে। মুকুটমণিপুর জলাধার থেকে এখনও জল ছাড়ার খবর নেই। তবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টি হলে সেখানকার জল গড়বেতা, চন্দ্রকোণা হয়ে ঘাটালে শিলাবতীতে মেশায় জলস্তর বেড়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক হয়ে শিলাবতী নদীর জল ঢুকেছে অজবনগর পঞ্চায়েতের পান্না এলাকায়। ডুবেছে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা। এই রাস্তা দিয়ে বরদাচৌকান হয়ে ঘাটাল শহরে পৌঁছানো যায়। বুধবার সকাল থেকে রাস্তায় উপর দিয়ে হাঁটু সমান জল বইছে। ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন মানুষজন। পান্না গ্রামে বাড়ি ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাটের। গ্রামের রাস্তা ডুবে যাওয়ায় খালি পায়ে হেঁটে জল পেরিয়ে বিধায়ককে ঘাটালে পৌঁছতে হয়।
বিধায়ক বলেন, 'বাঁকুড়া, পুরুলিয়া উপরিভাগ এলাকায়। ভারী বৃষ্টি হলে ঘাটালে শিলাবতী নদীতে জলের চাপ বাড়ে। ঘাটালে আরও কিছু নিচু এলাকায় জল ঢুকছে। তবে ভয়ের কিছু নেই, পুলিশ-প্রশাসন আগে থেকেই বন্যা মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।'
ঘাটাল ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দেওয়ানচক, অজবনগর প্রভৃতি এলাকার কৃষি জমি, মাঠ জলে ডুবে গিয়েছে। পুর এলাকাতেও জল ঢুকতে শুরু করেছে। বিডিও অভীক বিশ্বাস বলেন, 'ভারী বৃষ্টি আর জলাধার থেকে জল ছাড়ার কারণে শিলাবতী নদীতে জল বেড়েছে। মনসুকায় ঝুমি নদীর জলস্তর কিছুটা বেড়েছে। পরিস্থিতির উপরে উপর নজর রাখা হচ্ছে। এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছ।'