• নতুন বছরে ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে ট্রেন, উদ্বোধনে হাজির থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ

    সম্ভবত নতুন বছরের শুরুতেই ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ছুটবে ট্রেন। রেল সূত্রের খবর, তারকেশ্বর-বিষ্ণুপুর রেল প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হবে রামকৃষ্ণের পবিত্র জন্মভূমি কামারপুকুরে। সেই অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে পরেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই লক্ষ্যে দ্রুত গতিতে রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে ঘন ঘন পরিদর্শনে আসছেন রেলের বড় কর্তারা। এই রেললাইন চালু হয়ে গেলে হাওড়া থেকে বিষ্ণুপুর হয়ে বাঁকুড়া পর্যন্ত বন্দে ভারত ট্রেন চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে রেলের।

    এই রেল প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে থাকা রেলের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, গোঘাট ও কামারপুকুরের মধ্যে রেললাইন নির্মাণের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভাবাদিঘিতে রেল ব্রিজ নির্মাণের কাজও চলছে জোরকদমে। ভাবাদিঘির উপরে ইতিমধ্যেই ৯টি কংক্রিটের পিলার উঠে গিয়েছে। বের্তমানে সেখানে গার্ডার বসানোর প্রস্তুতি চলছে। কামারপুকুর থেকে জয়রামবাটির মধ্যে প্রস্তাবিত এই রেললাইনের উপরে একাধিক ছোট কালভার্ট ও ব্রিজ থাকবে। যেমন, গোঘাটের বন্যা কবলিত এলাকা অমরপুর ও আমোদর নদীর উপরে গার্ডার ব্রিজ তৈরির কাজ চলছে।

    তারকেশ্বর-বিষ্ণপুর রেল প্রকল্পের প্রথম সূচনা হয়েছিল ২০১২ সালে। তারকেশ্বর থেকে গোঘাট পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয় ২০১৬ সালে। তারও আগে থেকে বিষ্ণুপুর থেকে জয়রামবাটির মধ্যে ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু গোঘাটের ভাবাদিঘিতে জলাশয় ভরাট নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা আন্দোলনে নামায় এই রেল প্রকল্পের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে। রেললাইন নির্মাণের জন্য ভাবাদিঘি বোজানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে মামলা চলেছে।

    আদালতের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত ভাবাদিঘির উপরে ব্রিজ সেতু বানিয়ে রেললাইন নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। শুধু তাই নয়, ভাবাদিঘি বাঁচাতে একগুচ্ছ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে রেল। রেলের তরফে ভাবাদিঘির পাড়কে সুন্দর করে বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়েছে। রেলের টাকাতেই তৈরি হচ্ছে দোতলা স্কুল বিল্ডিং। কয়েক দিন আগে পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে ভাবাদিঘিতে ঘুরে গিয়েছেন। ২০২৬ সালের মধ্যেই যাতে এই প্রকল্পেপর কাজ সম্পূর্ণ হয়, তার অফিসারদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অনেকেই মনে করছেন, এই রেললাইন তৈরি হয়ে গেলে তারকেশ্বর, কামারপুকুর, জয়রামবাটি ও বিষ্ণুপুরের মধ্যে যাতায়াত অনেক সহজ হয়ে যাবে। বিষ্ণুপুর ও আরামবাগের মানুষ অনেক সময়ে ট্রেনে চেপে হাওড়ায় আসতে পারবেন। তাতে এই সব ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

    গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, 'খুব তাড়াতাড়ি এই কাজ শেষ হবে। জট কেটে গিয়েছে। এখন দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। তৃণমূলের আমলে জট পেকেছিল। আশা করছি আগামী বছরেই লক্ষ লক্ষ মানুষের আশা পূরণ হবে।' ভাবাদিঘি বাঁচাও কমিটির সম্পাদক সুকুমার রায় বলেন, 'আমরা আগেও বলেছি, ভাবাদিঘির মানুষ কখনওই রেলের বিপক্ষে ছিল না। আমাদের দাবি ছিল, স্থানীয় মানুষদের জীবন-জীবিকাকে রক্ষা করে রেললাইন তৈরি হোক।'

    কমিটির আর এক সদস্য কৃষ্ণা রায় বলেন, 'ভাবাদিঘির উপর দিয়ে ট্রেন চলুক। সেই সঙ্গে ভাবাদিঘির উন্নয়ন হোক, এটাই আমরা চাই।'

  • Link to this news (এই সময়)