এই সময়: এ যেন জগন্নাথের ঘরে ‘গণেশ’-এর আক্রমণ! আজব বিড়ম্বনা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে। নাস্তানাবুদ সেবায়েতরা, নাজেহাল মন্দির কর্তৃপক্ষ। নিবেদন করার কিছুক্ষণের মধ্যেই উধাও হয়ে যাচ্ছে ফুল। এমনকী রেহাই পাচ্ছে না বিগ্রহের পোশাকও। কেটেকুটে ফুটো করে দেওয়া হচ্ছে জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলরামের পোশাক! এমনকী গর্ভগৃহে ঢোকার পরে ভক্তকুলও বিভ্রান্ত। পায়ের পাতায় এমন অদ্ভুত সুড়সুড়ি দিচ্ছে কারা!
ইঁদুরের উপদ্রবে হুলস্থূল পড়েছে জগন্নাথ মন্দিরে। মন্দির চত্বরে তো বটেই, গর্ভগৃহে পর্যন্ত হানা দিয়েছে মূষিক-দল। তাদের দোসর হয়েছে আরশোলারা। সব মিলিয়ে একেবার তাণ্ডব করে ছাড়ছে তারা।
সমস্যা হলো, ইঁদুর বা আরশোলা মেরে ফেলা যাবে না। হাজার হোক, দেবস্থান। অতএব, জীবহত্যা সেখানে মহাপাপ। তা ছাড়া মন্দিরের নিয়মাবলিতেও স্পষ্ট ভাবে বলা রয়েছে, কোনও রকম প্রাণী হত্যা সেখানে চলবে না। তাই তাদের জ্যান্ত ধরার পরিকল্পনা হয়েছে।
জানা গিয়েছে ইঁদুরের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে কলের। সেগুলি গর্ভগৃহ-সহ মন্দিরের নানা জায়গায় রাখা হয়েছে। তাতে কাজও হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ইঁদুর ধরা পড়েছে বলে পুরী প্রশাসন সূত্রের খবর। আরশোলার জন্য মাটির বাসনের গায়ে চিটেগুড় এবং অন্য আঠালো পদার্থ মাখিয়ে রাখা হচ্ছে। আরশোলা সে সব খেতে এসে তাতে সেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু মারা যাচ্ছে না। সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইঁদুর এবং আরশোলা এমন জায়গায় ছেড়ে দেওয়া হবে, যা মানুষের বসতি থেকেও বেশ খানিকটা দূরে।
দ্বাদশ শতাব্দীতে (১১৩৬-১১৯৭ খ্রিষ্টাব্দ) তৈরি এই মন্দিরের বেশ কিছু অংশ মেরামত এবং পুনরুদ্ধারের কাজ করছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)। তাদের সঙ্গে কথা বলে এই প্রাচীন মন্দিরে ইঁদুর ও আরশোলা ঢোকার সমস্ত সম্ভাব্য রাস্তা বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কয়েক জন সেবায়েতকে ইঁদুর-আরশোলা মোকাবিলার জন্য বিশেষ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে।
শ্রীজগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসজেটিএ) চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর অরবিন্দ পঢ়ির নেতৃত্বে সম্প্রতি এই সমস্যার সমাধান নিয়ে একটি বৈঠক হয়। তাতেই ফাঁদ পাতার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঢ়ি জানিয়েছেন, ইঁদুর এবং আরশোলার সমস্যা এই প্রাচীন মন্দিরে নতুন নয়। তবে কোভিডের সময় থেকে তা অত্যন্ত দ্রুত হারে বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘কোভিডের সময়ে ভক্তদের আনাগোনা খুব কম ছিল। সেই সময়ে ওদের উপদ্রব বাড়ে। ২০২৩-এ একবার এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে ওদের সংখ্যায় বাঁধ দেওয়া যায়নি। ফলে আবার সেই পথ আমাদের নিতে হচ্ছে।’ ফের কেন ইঁদুর-আরশোলার উৎপাত বাড়ল, সে সম্পর্কে মন্দির প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি। পুরীর জেলাশাসক দিব্যজ্যোতি পরিদা জানিয়েছেন, এএসআই-এর সঙ্গে আলোচনা করেই সব পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে পুরীর মন্দিরে বাঁদরের দাপাদাপি ছিল। কপিকুলের জন্য সমস্যায় পড়তে হতো পুণ্যার্থীদের। তখনও হত্যার পথে হাঁটেননি মন্দির কর্তৃপক্ষ। সে সময়ে প্রথমে কয়েকটি হনুমান আনা হয়। তাদের ভয়ে কয়েকটি বাঁদর পালালেও, অধিকাংশই থেকে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বন দপ্তরের সাহায্য নিয়ে তাদের ধরে জঙ্গলে ছেড়ে আসা হয়। একই ব্যবস্থা করা হয়েছিল পায়রার সংখ্যায় রাশ টানতেও।