বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
এখনও তিনি সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। আরও ভালো ভাবে বললে, তাঁর অদৃশ্য উজ্জ্বল উপস্থিতি আজও শিহরণ জাগায়। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে হয়, একটু অপেক্ষা করলে তাঁকে দেখা যাবে। যাবেই! মাইথন জলধারের দ্বীপগুলিকে কেন্দ্র করে সারা বছরই থাকে পর্যটকদের ভিড়। বিশেষ করে, আনন্দদ্বীপ, সবুজ দ্বীপ দেখতে ভিড় করেন প্রচুর পর্যটক। আর তার সঙ্গে যদি জুড়ে থাকে উত্তমকুমারের নাম, তা হলেও ঘোরার আনন্দ নিমেষে পাল্টে যায়।
আজ, বৃহস্পতিবার রুপোলি পর্দার নায়কের জন্মশতবর্ষ পালিত হতে চলেছে সারা রাজ্য জুড়ে। উত্তম আবার ফিরেছেন স্বমেজাজে। চেনা ভঙ্গিতে। মাইথনের জলাধারের দ্বীপগুলি ঘুরতে হয় নৌকোয়। যাঁরা নৌকোর মাঝি, তাঁরা প্রায় প্রত্যেকটি দ্বীপ দেখাতে গিয়ে বলে ওঠেন, 'জানেন তো, এখানে এসেছিলেন উত্তমকুমার। তিনিও নৌকোয় শুটিং করেছেন।'
আসলে বাংলা সিনেমার মহানায়কের সঙ্গে এই মাইথনের একটি গভীর যোগ তো রয়েইছে। চিত্তরঞ্জন তথা রূপনারায়ণপুরের বর্তমান বাসিন্দা অখিল মজুমদার তো সেই প্রসঙ্গ উঠলে আর থামতেই চান না। অখিল পেশায় জনপ্রিয় এবং দক্ষ অঙ্কন শিল্পী। প্রসঙ্গ উঠতেই গড়গড়িয়ে বলে চলেন, 'আরে ওই শঙ্খবেলা সিনেমার শুটিং তো হয়েছিল এখানেই। ওই যে সেই গানটা কে প্রথম কাছে এসেছি...', কেমন যেন হাওয়ায় মিলিয়ে যায় সেই তরঙ্গ!
কিন্তু প্রবীণ শিল্পীর চাপা যন্ত্রণাও রয়েছে। তিনি যখন শুটিংয়ের খবর জানতে পারেন, সেই সময়ে মহানায়ক কাজ সেরে করে ফিরে গিয়েছেন কলকাতায়। তাঁকে নিয়ে মানুষের উন্মাদনা কোন উচ্চতায় পৌঁছেছিল, সব গল্প শোনা অন্যের মুখ থেকে। মাইথন জলাধারেই শঙ্খবেলা সিনেমার সেই কালজয়ী গানের দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল। উত্তমের নায়িকা ছিলেন মাধবী মুখোপাধ্যায়।
অখিল সেই দৃশ্য দেখেননি। দেখেছেন কামরান। মাইথনের বাথানবাড়ির বাসিন্দা কামরান বললেন, 'আমি তো তখন বেশ ছোট। উত্তমকুমার এসেছেন, সেই খবর পেয়ে আমিও ছুটেছিলাম।' বলে চলেন, 'যে নৌকো মজুমদার নিবাসের দিক থেকে এসেছিল শুটিংয়ের জন্য, সেটা পাক খেত বিভিন্ন দ্বীপে। নৌকোটাকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছিল। সে ছিল দেখার মতো দৃশ্য।'
মাইথনের আর এক প্রবীণ মাঝি ইউসুফ আনসারি শোনালেন অন্য গল্প। সেই গল্প উঠে আসে সোলেমানের নাম। সোলেমান চালিয়েছিলেন উত্তমকুমারের সেই নৌকো। তাঁর নামে মাইথনে একটি পার্কও রয়েছে।' সময়ের স্রোতে হারিয়েছে অনেক কিছু। কিন্তু উত্তমকুমারকে ঘিরে স্মৃতিতে ধূসরতার ছায়া পড়েনি। মাইথনের দ্বীপে, দ্বীপে এখন ঘুরে বেড়ায় নৌকো। কান পাতলে শোনা যায় সেই সুর, 'কে প্রথম কাছে এসেছি...!'