• ভবা পাগলার সঙ্গে দেখা করেছিলেন ইন্দ্রপুরীতে
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • সূর্যকান্ত কুমার, কালনা

    কালনার সাধক ভবা পাগলাকে নিয়ে একটি বাংলা সিনেমা তৈরির কথা হয়েছিল। সেই ছবিতে ভবা পাগলার চরিত্রে স্বয়ং উত্তমকুমার! শেষপর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। তার আগেই প্রয়াণ হয় তাঁর। সেই আক্ষেপের কথা আজও শোনা যায় ভবা পাগলার পরিবারের উত্তরসূরিদের মুখে।

    আধ্যাত্মিক সঙ্গীত, এবং কয়েক হাজার লোকসঙ্গীতের রচয়িতা ছিলেন কালনার কালীসাধক ভবা পাগলা। কালনা শহরের জাপট এলাকায় এখনও আছে ভবার ভবানী মন্দির। এই মন্দিরে আজীবন সাধনা করেছেন তিনি। শুধু গান নয়, সেলাই-সহ একাধিক বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন তিনি। বাংলা সিনেমার বহু শিল্পী, সঙ্গীত শিল্পী, সুরকারদের কাছে পরিচিত ছিলেন তিনি।

    টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়ায় বেশ কয়েক বার গিয়েছিলেন ভবা পাগলা। গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, মলিনা দেবী-সহ অন্য শিল্পীদের সঙ্গে ভবা পাগলার ফ্রেম বন্দি ছবি কালনার ভবানী মন্দিরে এখনও দেখা যায়। মন্দিরে ঢুকেই বাঁ দিকের দেওয়ালে জ্বলজ্বল করছে উত্তমকুমারের সঙ্গে ভবা পাগলার সাক্ষাতের ছবি।

    ভবা পাগলার নাতি অভিজিৎ চৌধুরী বলছিলেন, 'দাদু নিজে শিল্পী হওয়ায় অন্য শিল্পীদের সম্মান করতেন। নিজের আরাধ্য দেবীর মন্দিরে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে শিল্পীদের ছবিও রেখেছিলেন সম্মান জানিয়ে। উত্তমকুমারের সঙ্গে দাদুর সাক্ষাতের ছবিটি ১৯৭৯-তে ইন্দ্রপুরী স্টুডিওর। আমার বাবা সঞ্জয় চৌধুরী সেই সময়ে ছিলেন দাদুর সঙ্গে। তাঁর কাছেই শুনেছি, দাদুকে নিয়ে একটি ছবি ওয়ার কথা ছিল। দাদুর চরিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল উত্তমকুমারের।'

    অভিজিৎ বলেন, 'উত্তমকুমার দাদুর সাক্ষাৎ চেয়ে তাঁর আশীর্বাদ নিয়েছিলেন। উনি অভিনয়ের ক্ষেত্রে একশো শতাংশ নিখুঁত থাকতেন। হয়তো দাদুর সঙ্গে দেখা করে তাঁর মুখ থেকে খুঁটিনাটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত আর হলো না সিনেমা।' ভবা পাগলার পরিবারের এক নাতবৌ সোমা চৌধুরীর মন্তব্য, 'মন্দিরে উত্তমকুমারের সঙ্গে তাঁর ছবি দেখেছি। ইস! সত্যি যদি ওই সিনেমাটা হতো!'

  • Link to this news (এই সময়)