• মহালয়ায় ইডেনে পুজোর মেগা-শো, থাকতে পারেন মোদীও
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়: দুর্গাপুজোর শেষে কার্নিভাল ছিল তৃণমূল জমানায় সরকারের অন্যতম মেগা শো। রাজনৈতিক পালাবদলের পরে এ বারই বঙ্গে প্রথম পুজো। এ বারের দুর্গাপুজোর শুরুতেই তাই ধামাকা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

    সূত্রের খবর, আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথা। তাঁকে রাজ্যের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মহালয়ার দিন সন্তোষ মিত্র স্কোয়্যারের পুজোর উদ্বোধনেও মোদীর থাকার কথা। ইতিমধ্যে সরকারি তরফে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজ্যের পরিকল্পনা— এমন একটা অনুষ্ঠান করা হবে, যা সারা বিশ্বের কাছে কলকাতা তথা বাংলার পুজোকে আরও ভালো ভাবে তুলে ধরবে। পুজো নিয়ে রাজ্যের আরও পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন। সেখানেই এ নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জানানো হবে বলে সূত্রের দাবি।

    তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন ইডেন গার্ডেন্সে হবে সেই মেগা অনুষ্ঠান। সিএবি (ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল) সূত্রের খবর, যাঁরা অনুষ্ঠানের নানা দায়িত্ব পেয়েছেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন।

    গত ১৫ বছরে বাংলার পুজো সংস্কৃতিতে অনেক বদল এসেছে। তৃণমূল জমানায় ক্লাবগুলিকে পুজো আয়োজনের জন্য সরকারি অনুদান দেওয়া শুরু হয়। বড় পুজোগুলি কার্যত কর্পোরেট কায়দায় পরিচালিত হয়। পুজোর শেষে কলকাতায় রেড রোডে হতো কার্নিভাল। গত কয়েক বছরে প্রতিটি জেলা সদরেও কার্নিভাল আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। সেখানে দেশের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও আসতেন। পুজোর জাঁকজমক আগের মতো থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল বিভিন্ন মহলের। কারণ, বড় পুজোগুলির সিংহভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৃণমূলের নেতা–মন্ত্রীরা, পালাবদলের পরে তাঁদের অনেকেই সেই সব পুজো থেকে সরে এসেছেন। সেই আবহেই এ বার মহালয়া থেকে পুজোর টেম্পো তুলতে চাইছে রাজ্য। সূত্রের খবর, বাংলার দুর্গাপুজোকে বিশ্বের সামনে আরও বড় পরিসরে তুলে ধরাই হবে এই মেগা শো-র মূল উদ্দেশ্য।

    সূত্রের খবর, শুধু দুর্গাপুজোর বিসর্জন-পরবর্তী কার্নিভালের মধ্যে উৎসবের প্রচার সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে না নবান্ন। তাদের পরিকল্পনা, মহালয়ার দিন থেকেই গোটা রাজ্যে পুজোর আবহকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরা। পিতৃপক্ষের অবসান এবং দেবীপক্ষের সূচনার দিনটিকেই তাই বেছে নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের রূপরেখা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

    তবে সরকারি সূত্রের দাবি, বাংলার দুর্গাপুজোর ইতিহাস, দেবীর আগমনি, বিভিন্ন জেলার লোকসংস্কৃতি, ঢাক, ধুনুচি নাচ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্যে আনার পরিকল্পনা চলছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোক সংস্কৃতিকে এই মঞ্চে তুলে ধরা হবে। মূল চেষ্টা হবে দুর্গাপুজো নিয়ে সারা বিশ্বের নজর কাড়া। সিএবি-কে এখনও আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া না হলেও, সেই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গিয়েছে।

    কলকাতার দুর্গাপুজো ইতিমধ্যেই ইউনেস্কোর ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ’-এর স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা, সেই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে কলকাতা এবং পশ্চিমবঙ্গকে পুজোর সময়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা।

  • Link to this news (এই সময়)