মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর গত শনিবার থেকে শুরু হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিতর্কিত ও ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান মোছার কাজ। প্রথম দফায় দেওয়াল মোছার পর সাদা প্রলেপের উপর ফের কার্ল মার্কসের উক্তি লেখা হয়। মঙ্গলবার সেই উক্তিতেও চুনকাম পড়ে। বৃহস্পতিবার দেখা গেল, মুছে দেওয়া দেওয়ালে ফের ‘বিতর্কিত’ স্লোগান। ইংরাজি হরফে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে লেখা, ‘জো হিটলার ওয়ালি চাল চালেগা, ওহ হিটলার ওয়ালি মউত মারেগা।’ অর্থাৎ যে হিটলারের মতো চলবে তার হিটলারের মতো মৃত্যু হবে। এছাড়াও লেখা হয়েছে, ‘মুসোলিনি কো দে দি আজাদি, আরএসএস কো ভি দেঙ্গে আজাদি।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি ও বাম ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গত দুই সপ্তাহ ধরে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে আজ, বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্দে মাতরম যাত্রার ডাক দিয়েছে এবিভিপি। এছাড়াও এদিনই ‘হরিপদ ভারতী স্মৃতিরক্ষা সমিতি’র উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়ামে জাতীয়তাবাদী সম্মেলন করা হবে। এই সম্মেলনের শুরুতে পাঠ করা হবে বেদমন্ত্র। গাওয়া হবে বন্দে মাতরম। অন্যদিকে এদিনই যাদবপুরে মিছিলের ডাক দিয়েছে এসএফআই। তার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে নতুন করে বিতর্কিত স্লোগান লেখা হল। যদিও কে বা কারা এই স্লোগান লিখেছে তা জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা বিতর্কিত দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি মোছার কাজ শুরু হয়েছিল শনিবার রাতে। রবিবার যেখানে যত দেওয়াল লিখন ছিল, তা চুনকাম করে দেওয়া হয়। এবিভিপি জানিয়েছিল, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই দেওয়াল লিখন মুছে দেয়। এনিয়ে সিপিএম ও এসএফআই পালটা প্রশ্ন তুলেছিল। মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘কিষেণজি জিন্দাবাদ’, ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’-এর মতো স্লোগান দেশবিরোধিতার শামিল। কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসব কাম্য নয়। তাই তা মুছে ফেলা হয়েছে। যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের মুছে ফেলা ওই দেওয়ালে ফের লেখা হয়েছিল স্লোগান। কার্ল মার্ক্সের উক্তির চার লাইন লিখে দিয়েছিল কেউ বা কারা। অনুমান করা হয়েছিল, সেটি বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের কাজ। তবে কে বা কারা ওই কাজ করেছিল, তা জানা যায়নি। পরে সেই উক্তিও মুছে দেওয়া হয়। এবার মুছে দেওয়া দেওয়ালগুলির উপর আবার লেখা হল বিতর্কিত স্লোগান।