বাড়ি বাড়ি জ্বরের রোগীর খোঁজ, প্রাইভেট ল্যাবকে কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার অনুরোধ, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পর হাই অ্যালার্ট স্বাস্থ্যভবনের
বর্তমান | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্বাস্থ্যভবন বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে জারি হল জরুরি নির্দেশিকা। জানানো হল, আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাবেন। রাজ্যের সর্বত্র ৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময়ের জ্বরের ঘটনা নজরে এলেই রিপোর্ট করবেন। ১৫ অক্টোবর বা পঞ্চমী পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের যেসব জায়গায় জ্বরের ঘটনা বেশি হচ্ছে, সকাল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে ফিভার ক্যাম্প। প্রয়োজনে ক্যাম্প থেকে রোগীকে হাসপাতালে ভরতির ব্যবস্থা করা হবে। তৃতীয়ত, রাজ্যের সর্বত্র সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর অ্যালাইজা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। যেখানে সম্ভব হবে না, প্রাইভেট ল্যাবের সাহায্য নেওয়া হবে। ওইসব জায়গায় তাদের নিখরচায় বা কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। এছাড়া বাড়িতে থাকা ডেঙ্গু রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হবে। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আজ থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজ্যর ১২৮টি পুরসভায় সাফাই অভিযান চলবে।
এদিকে স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত (২৬ আগস্টের সর্বশেষ সাপ্তাহিক অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী), বাংলায় ডেঙ্গু সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ (আক্রান্ত ৭৭৪)। কলকাতা (৩৪০) দ্বিতীয় স্থানে। উত্তর ২৪ পরগনা (৩১৭) তিন নম্বরে। চতুর্থ মালদহ (৩০৯)। তারপরে আছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা (২৯৭)। আক্রান্তের সংখ্যা বিচারের পরের পাঁচ জেলা হল—নদীয়া, হুগলি, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান। মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত সাড়ে ৭ হাজারের বেশি। এর মধ্যে ভাইভক্সই সাড়ে ৬ হাজার! পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে ম্যালেরিয়া সংক্রমণ বেশি। এদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশ মেনে স্কুলশিক্ষা দপ্তরও জানিয়েছে, স্কুলগুলিকে প্রার্থনার সময় পড়ুয়াদেরও ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতার পাঠ দিতে হবে।