• টানা বৃষ্টি-বেহাল রাস্তার জোড়া ফলা, দিনভর যানজটে তীব্র ভোগান্তি শহরবাসীর
    বর্তমান | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেরামতির অভাব ও টানা বর্ষার কারণে রাস্তাঘাট আগে থেকেই বেহাল হয়েছিল। তার উপর মঙ্গলবার গভীর রাত থেকে শুরু হয় নাগাড়ে বৃষ্টি। বুধবার ভোরের দিকে কয়েক ঘণ্টা ফাঁকা গেলেও সকাল ৯টা নাগাদ ফের শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সমস্যার এই জোড়া ফলায় বুধবার দিনভর চূড়ান্ত দুর্ভোগ পোহাতে হল কলকাতাবাসীকে। কেউ কাজে বেরিয়ে আটকে পড়েছেন জমা জলের কারণে যানজটে। কেউ আবার বৃষ্টির ঝাপটায় এতটাই ভিজে গিয়েছেন যে অফিসই যেতে পারেননি। রাত পর্যন্ত কখনও ঝেঁপে, কখনও ঝিরঝিরে বৃষ্টি চলে। জায়গায় জায়গায় জমা জল, তার উপর বেহাল রাস্তা যানবাহনের গতি শ্লথ করে দেয়। সুযোগ বুঝে দাঁও মেরেছে অ্যাপ নির্ভর বিভিন্ন পরিবহণ সংস্থা। 

    মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টিতেই জলমগ্ন হয়ে যায় মধ্য কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভিক্টোরিয়ার আশপাশের চত্বর, পার্ক স্ট্রিট, শেক্সপিয়র সরণি, লাউডন স্ট্রিট, রাউডন স্ট্রিট, ক্যামাক স্ট্রিট এলাকায় জল জমে। বাদ যায়নি উত্তরের ঠনঠনিয়া, আমহার্স্ট স্ট্রিট। সকালে স্কুলে পৌঁছাতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় খুদে পড়ুয়াদের। তবে পরিস্থিতি দেখে অনেকেই বাচ্চাকে আজ স্কুলে পাঠাননি। আবার পরীক্ষা থাকায় অনেকে রিকশ, ট্যাক্সি করে স্কুলে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। জলমগ্ন রাস্তায় স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হয়েছে অভিভাবকদের। সুমনা বসাক নামে এক গৃহবধূ বলছিলেন, ‘প্রতিদিন রিকশ করে আমহার্স্ট স্ট্রিট থেকে হিন্দু স্কুলে পৌঁছাতে ৩০ টাকা নেয়। এদিন রিকশচালক নিলেন ৭০ টাকা।’ 

    কলকাতা পুরসভা জানিয়েছে, এদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে শহরে। এই বৃষ্টিতে নতুন করে জলমগ্ন হয়ে পড়ে শহরের বিভিন্ন অংশ। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতায় বৃষ্টির দাপট ছিল তুলনামূলক বেশি। এক্সাইড, মোমিনপুর, যোধপুর পার্ক, বালিগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকার বিভিন্ন অংশে জল জমতে দেখা গিয়েছে। কাজের দিনের অফিস টাইমে মুষলধারে বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়ে যান চলাচলে। বেহালা থেকে একবালপুর পর্যন্ত রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। খিদিরপুর, আলিপুর রোড, বর্ধমান রোডে বড়ো বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেহালা থেকে মোমিনপুর পৌঁছাতে অফিস টাইমে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা সময় লেগেছে বাসযাত্রীদের। অঙ্কিত গোস্বামী নামে এক অফিসযাত্রী বলেন, ‘প্রতি বর্ষার আগে রাস্তা মেরামত হয়। কিন্তু এবছর বিষয়টিতে নজরই দেওয়া হয়নি। প্রতিদিন দুর্বিষহ পরিস্থিতি কাটিয়ে অফিস যেতে হচ্ছে।’ 

    বুধবার বিকালের পর বৃষ্টি কমে। কিন্তু অফিসযাত্রীদের বাড়ি ফেরার সময়ও ভুগিয়েছে যানজট। মা ফ্লাইওভারের ডি এল খান রোড ক্রসিংমুখী ফ্ল্যাঙ্কে যানবাহন প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায়। একই হাল হয় আলিপুর রোড, বর্ধমান রোডে। মধ্য কলকাতার সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতেও সন্ধ্যার অফিসটাইমে যানজটে ভুগতে হয়েছে আম জনতাকে।
  • Link to this news (বর্তমান)