সুকান্ত বসু, কলকাতা: নিশুতি এক নিঝুম রাতে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই ক্ষণকে স্মরণে রেখে জন্মাষ্টমীর রাতে বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে রাধা‑কৃষ্ণকে আড়াইশো রকমের ভোগ নিবেদনের রীতি। সে মহাপ্রসাদ ভক্তদের বিলি করা হয় জন্মাষ্টমীর পরেরদিন নন্দ উৎসবে। ওইদিন হল আনন্দ উৎসব। কারণ শ্রীকৃষ্ণের জন্মগ্রহণের পর তাঁর পালিত পিতা নন্দ ও মাতা যশোদার গৃহে আনন্দের হাট বসেছিল। সে কারণেই নন্দ উৎসব ঘটা করে পালন করে মঠ কর্তৃপক্ষ। উৎসবে যোগ দিতে আসেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভক্ত।
গৌড়ীয় মঠ জানিয়েছে, আড়াইশো রকমের ভোগ সাজানো হয় কুড়ি রকমের ভাজা, নানা ধরনের ছানার তরকারি, পোলাও, রাধাবল্লভি, ধোকার ডালনা, আলুর দম, নানারকমের সবজি দিয়ে চচ্চড়ি, ফুলকপির রসা, বাঁধাকপির তরকারি, চাটনি, মালপোয়া, রাবড়ি, দই, বোঁদে, তালের বড়া, ৩৫ রকমের মিষ্টি, ৩০ রকমের ফল, খেজুর, আখরোট, পেস্তা, নারকেল, বিভিন্ন ধরনের নাড়ু প্রভৃতি দিয়ে। মন্দিরের রন্ধনশালায় শুদ্ধ পোশাকে নিষ্ঠা সহকারে রান্না হয় ভোগ। তারপর জন্মাষ্টমীর রাতে সে ভোগ সাজিয়ে রাখা হয় মূল মন্দিরে। তিথি নক্ষত্র কঠোরভাবে মেনে শুরু হয় জন্মাষ্টমীর পুজো। সে পুজো দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
এর পাশাপাশি ২৫০ বছরের প্রাচীন কাশীপুর রাসবাটিতেও ঘটা করে পালন হয় জন্মাষ্টমী ও নন্দ উৎসব। রতনবাবু রোডে রয়েছে এই মন্দির। সেখানকার সেবায়েত তুষার দে জানান, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথির রোহিণী নক্ষত্রের শুভক্ষণে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম। সে কারণে এই বিশেষ দিনে গোপীনাথের (এই মন্দিরের শ্রীকৃষ্ণের নাম) জন্মমুহূর্তে বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধী মন্দিরে ছড়ানো হয়। তারপর শুরু হয় জন্মাষ্টমীর পুজো। সন্ধ্যায় এবং তার পরের দিন নন্দ উৎসবে মন্দিরে আগত ভক্তদের জন্য বিশেষ দর্শনের ব্যবস্থা থাকে। নামগান হয়। এই বিশেষ দিনে গোপীনাথ সুসজ্জিত থাকেন রাজবেশে।