লক্ষ টাকার বরাত ফিরিয়ে দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা! বিশ্বকর্মা-দুর্গোৎসবের মুখে মৃৎশিল্পে কেন নেমে এল এই সংকট
News18 বাংলা | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তমলুক, সৈকত শী: সামনেই দুর্গাপুজো! তার আগে বিশ্বকর্মা পুজো। প্রতিবছর এই সময়ে প্রতিমা শিল্পীদের এখন দম খেলার ফুরসত থাকত না। কিন্তু চলতি বছর চিত্রটা একটু হলেও আলাদা। ইচ্ছে না থাকলেও প্রতিমা তৈরির অর্ডার ফিরিয়ে দিচ্ছেন শিল্পীরা। কারণ খড়ের আকালে এবার কপালে চিন্তার ভাঁজ মৃৎশিল্পীদের। পুজোর আগে লাগাতার বৃষ্টিতে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে জমা জলের পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় একপ্রকার বিঘ্নিত হয়েছে কাজকর্মে। মজুত খড় ভিজে যাওয়ায় এবং বন্যার জেরে চাষিদের থেকে পর্যাপ্ত খড় না মেলায় এখন চিন্তায় মৃৎশিল্পীরা। চিত্রটা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া থেকে তমলুক পটাশপুর থেকে পাঁশকুড়া সর্বত্র একই।
মৃৎশিল্পীদের কাছে দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যায় প্রতিমা তৈরির কর্মব্যস্ততার মাধ্যমে। প্রথমে বাঁশের কাঠামো তৈরি এবং পরে ক্রমে ক্রমে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় রূপ পায় প্রতিমা। কিন্তু কাঠামো তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে প্রয়োজন হয় খড়ের। বর্তমানে জেলা জুড়ে সেই খড়ের আকাল দেখা। দুর্গা প্রতিমা তৈরির জন্য শিল্পীরা যে খড় মজুত রেখেছিলেন, তা বর্তমানে জমা জলের পরিস্থিতিতে তার অধিকাংশ খড় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কৃষকদের কাছেও মিলছে না পর্যাপ্ত খড়। যে পরিমাণ খড় রয়েছে তারও আবার আকাশ ছোঁয়া মূল্য। অন্যান্য বছরে এক মণ খড় বিক্রি হত ৭০০- ৮০০ টাকায়। তবে চলতি বছর মূল্য বৃদ্ধি হয়ে ১০০০ টাকা হয় একই খড়ের দাম। লাগাতার বৃষ্টিতে বন্যার মতো পরিস্থিতির পর সেই খড়ের দাম বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০০-৫০০০ টাকা।
শুধু দুর্গা প্রতিমা নয়, সমস্যা বাড়িয়ে তুলেছে বিশ্বকর্মা-সহ অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি গড়ে তোলা। তাই নতুন করে প্রতিমা তৈরির বরাত এসে গেলেও ফিরিয়ে দিচ্ছেন শিল্পীরা। এ প্রসঙ্গে নন্দকুমারের রাউতৌড়ি এলাকার এক প্রতিমা শিল্পী মঙ্গল সিংহ রায় বলেন, প্রতিমা তৈরির জন্য যা খড় কিনেছিলাম বেশিরভাগই নষ্ট হয়েছে। নতুন করে খড় কিনতে গিয়ে পাওয়া যাচ্ছে না বেশি দাম দিয়েও, পাশাপাশি অগ্নিমূল্য পাটের দড়িরও। ১২৫ টাকা কেজি দরে কেনা পাটের দড়ির দাম বর্তমানে ২৫০ টাকা। একই দাবি করেন তমলুকের আরেক প্রতিমা শিল্পী সৌভিক ঘোষ। তাঁর সংযোজন, “চলতি বছর কোনওরকমে প্রতিমা তৈরি করতে পারলেও পরের বছর কী হবে জানি না। কারণ বর্ষায় নষ্ট হয়েছে ধানের চাষে, তাই খড় পাওয়া যাবে না।"