এই সময়: শাস্তি হিসেবে ক্লাসরুমের বাইরে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। তারপর সেখান থেকে ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে। ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে দু’ঘণ্টা ছিল ১৬ বছরের মেয়েটি। সেখান থেকে বেরিয়ে সটান স্কুলের চার তলায় উঠে যায় সে। তারপর ঝাঁপ মারে নীচে। গুরুতর জখম অবস্থায় ছাত্রীটিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েও বাঁচানো যায়নি। মৃত ছাত্রীর বাবার প্রশ্ন, ‘ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে দু’ঘণ্টা ধরে কেমন শাস্তি দেওয়া হলো?’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
হরিয়ানার ফরিদাবাদের নবোদয় বিদ্যা নিকেতন সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের এই ছাত্রী টিফিনে বিরিয়ানি খেয়েছিল। সেটাই তার অপরাধ। শাস্তি হিসেবে প্রথমে তাকে রোদে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল। তারপর সেখান থেকে কেন ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে যেতে বলা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিবার। স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মেয়েটি মঙ্গলবার ১১টা নাগাদ ভাইস প্রিন্সিপালের ঘরে ঢোকে। বেরোয় একটায়। মৃত ছাত্রীর বাবার কথায়, ‘এই দু’ঘণ্টায় কী যে হয়েছে, কে জানে? ওই ঘর থেকে বেরিয়েই আমার মেয়ে চার তলায় চলে যায়।’
মেয়ের বন্ধুদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, টিফিনে ক্লাসের কয়েকজন বিরিয়ানি খেয়েছিল। তাঁর মেয়েও সেই দলে ছিল। এর আগে কি মেয়েকে কখনও রোদে দাঁড়ানোর মতো শাস্তি পেতে হয়েছে? মৃত ছাত্রীর বাবার উত্তর, ‘কোনও দিন না।’
স্কুল কর্তৃপক্ষ অনেক দেরি করে তাঁকে খবর দেন বলেও অভিযোগ করেছেন মেয়েটির বাবা। সেই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘মেয়েকে হাসপাতালে রেখে আমাদের সঙ্গে দেখা না করেই ওঁরা চলে যান।’ এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে লোকাল থানা জানিয়েছে, তদন্ত শুরু হয়েছে। মেয়েটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে মেয়ের বাবা একমাত্র এইমস হাসপাতালেই ময়নাতদন্ত চেয়েছেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে।