• কচ্ছপদের বাঁচাতে এখন পুনর্বাসন কেন্দ্র, উদ্যোগী পঞ্চায়েত
    এই সময় | ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • এই সময়, কাটোয়া: কচ্ছপ বাঁচাতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কেতুগ্রামের নবগ্রাম পঞ্চায়েত। বিপন্ন এই প্রাণীকে রক্ষা করতে কচ্ছপ পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে নজির গড়েছে এই পঞ্চায়েত।

    পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কচ্ছপ বাঁচানোর জন্য সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে৷ রাস্তা, নদী, নালায় কচ্ছপ দেখলে স্থানীয়রা তা উদ্ধার করে পঞ্চায়েতের কচ্ছপ পুনর্বাসন কেন্দ্রে দিয়ে আসছেন৷ সেখানে চিকিৎসার পরে সুস্থ কচ্ছপদের ফের নদীতে ছেড়ে দিচ্ছেন কর্মীরা৷

    বেআইনি হলেও কচ্ছপ বিক্রি নতুন কিছু নয়। একাধিক বার সচেতন করেও কচ্ছপ বিক্রি বা পাচার বন্ধ করা যায়নি৷ কেতুগ্রাম-২ ব্লকের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের পাশ দিয়ে গিয়েছে ঈশানী নদী৷ তা গিয়ে মিশেছে ভাগীরথীতে৷ খাল, বিল, জলাশয় তো আছেই। গ্রামীণ এলাকায় বর্ষার মরশুমে জলাশয় থেকে প্রায়শই কচ্ছপ উঠে রাস্তায় চলে আসছে৷ কুকুর বা শিয়াল তা দেখতে পেলে ধরে খাওয়ার চেষ্টা করছে৷ এতে আহত হচ্ছে কচ্ছপ৷

    দু’মাস আগে নবগ্রাম পঞ্চায়েত ১৫ হাজার টাকা খরচ করে কচ্ছপ পুনর্বাসন কেন্দ্র গড়ে তোলে। এই কেন্দ্র তৈরি হয়েছে বনদপ্তরের লিখিত অনুমতি নিয়ে৷ পঞ্চায়েত ভবনের উঠানে রয়েছে বড় চৌবাচ্ছা৷ সেখানে উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলির চিকিৎসা চলছে, দেওয়া হচ্ছে খাবার। সুস্থ হলে তাদের আবার ভাগীরথীতে ছেড়ে দিয়ে আসা হচ্ছে৷

    পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি সৈকত রায় বললেন, ‘আমরা চাই কচ্ছপগুলো বাঁচুক৷ অনেকেই কচ্ছপ ধরছেন খাওয়ার জন্য, আমরা তা বন্ধ করতে চাই। বনদপ্তরের অনুমতি নিয়ে কচ্ছপ পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করেছি৷ উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়া হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করা হয় কচ্ছপগুলির। তারা সুস্থ হলে আবার নদীতে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

    তিনি আরও জানালেন, কচ্ছপ উদ্ধার করার সঙ্গে গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষকে এই বিশেষ প্রাণীকে বাঁচানোর জন্য সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে। তাতে ফলও মিলেছে। পথচলতি কোনও মানুষ কচ্ছপ দেখতে পালে তা নিয়ে আসছেন পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরিবেশের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করতে কচ্ছপের বড় ভূমিকা রয়েছে৷ সেই কারণে তা সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

    বর্তমানে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছ’টি কচ্ছপ রয়েছে৷ এর মধ্যে চারটি শিশু পুরুষ, দু’টি বড় মহিলা কচ্ছপ। পঞ্চায়েতের কর্মী মিহির সর্দার, অধরচন্দ্র সেন বললেন, ‘আমরা এই কচ্ছপগুলির দেখাশোনা করি। খাদ্য হিসেবে ভাত, গুগলি, শামুক দেওয়া হয়। আবার কখনও দোকান থেকেও পুষ্টিকর খাবারও আনা হয়।’

    ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে এই কচ্ছপ পুনর্বাসন কেন্দ্র। এলাকার মৎসজীবীদের জানানো হয়েছে, কোথাও কচ্ছপ দেখলে তা যেন এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে আনা হয়। সুখবর, পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যে কেউ এখন আর কচ্ছপ দেখলে তাকে মারেন না। সোজা নিয়ে চলে আসেন পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

  • Link to this news (এই সময়)